শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

রাজশাহীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে অস্বাস্থ্যকর মাত্রায় দূষণ

সোনার দেশ ১৪ আগস্ট ২০২৬ ১১:১৬ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১৪ আগস্ট ২০২৬ ১১:১৬ অপরাহ্ন
রাজশাহীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে অস্বাস্থ্যকর মাত্রায় দূষণ

মুক্তি পেতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি


একসময় যে শহরগুলোকে উন্নয়ন ও আধুনিকতার প্রতীক মনে করা হতো, আজ সেখানেই বাস করা মানুষের জন্য পরিষ্কার বাতাস, নিরাপদ পানি এবং শান্ত পরিবেশ ক্রমশই দুর্লভ হয়ে উঠছে। প্রতিদিনের ব্যস্ততা, যানজটের কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা এবং শিল্পবর্জ্যের বিষাক্ত প্রভাব নগরবাসীর স্বাস্থ্য ও জীবনের মানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। এই বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে-দূষণে আচ্ছন্ন নগর জীবনকে কীভাবে আবার বাসযোগ্য করা সম্ভব? শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ‘রাজশাহীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে অস্বাস্থ্যকর মাত্রায় দূষণ’-এই শিরোনামে সোনার দেশ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ সালে পরিচ্ছন্ন আর বাসযোগ্য নগরীর খেতাব পেয়েছিল রাজশাহী।


১০ বছর পরে এসে সে খেতাব ম্লান হতে লেগেছে। এখন ‘দূষণের নগরী’ পরিণত হতে চলছে। নগরীতে যত্রতত্র ময়লা ফেলা, ফুটপাত ও সড়ক দখল এবং দূষণের ছোবলে হারাতে বসেছে নগরীর সৌন্দর্য। এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে রাজশাহী বিনোদনকেন্দ্রগুলো। রাজশাহীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে অস্বাস্থ্যকর মাত্রায় দূষণ পাওয়া গেছে।  তাই দূষণ থেকে মুক্তি পেতে হলে নগর দূষণ মোকাবিলায় সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরশক্তি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধি করা শহরের বাতাসকে স্বস্তিদায়ক রাখতে সাহায্য করে।


একই সঙ্গে শহরে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ এবং সবুজ এলাকা সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, কারণ গাছপালা প্রাকৃতিকভাবে বাতাস পরিশোধিত রাখে এবং নগরের তাপমাত্রা কমায়। যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া কমাতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন, সাইকেল বা হাঁটার অভ্যাস বৃদ্ধি করতে হবে। পুরনো এবং অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনকারী গাড়িগুলো নিয়ন্ত্রণ বা আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা জরুরি। ইটভাটার ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার এবং অবৈধ দূষণকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করাও দূষণ হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও সুসংহত করতে হবে।


যত্রতত্র ময়লা বা প্লাস্টিক পোড়ানো বন্ধ করা, পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করা এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর। এর সঙ্গে শহরের ছাদ, বারান্দা এবং রাস্তার পাশে গাছ লাগানো, নির্মাণকাজের সময় ধুলাবালু নিয়ন্ত্রণ এবং জলাভূমি ও খোলা জায়গা সংরক্ষণ করা শহরের বায়ু মান উন্নয়নে সহায়ক। ব্যক্তিগত পর্যায়েও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। দূষিত সময়ে এন-৯৫ মাস্ক ব্যবহার, ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা, এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা এবং ধূমপান বর্জন করলে দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকাংশে কমানো সম্ভব। শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সামাজিক উদ্যোগ মিলিয়ে শহরকে পুনরায় স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করা সম্ভব। পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণই নগর জীবনের শ্বাসরোধী দূষণ প্রতিহত করার মূল চাবিকাঠি। এছাড়া গাছ লাগানো, ছাদবাগানে উৎসাহিত করা, জলাধার সংরক্ষণ সেই সঙ্গে নির্মল বায়ু আইনের বাস্তবায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে বাজেটের ওপর গুরুত্ব দেওয়া।