শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬

পাটের বাজার চাঙ্গা

সোনার দেশ ৩০ জুলাই ২০২৬ ১১:০৩ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ৩০ জুলাই ২০২৬ ১১:০৩ অপরাহ্ন
পাটের বাজার চাঙ্গা

সিন্ডিকেট যাতে ফায়দা নিতে না পারে

রাজশাহীতে এ বছর পাটের উৎপাদন বেড়েছে। জাগ দেয়ার জন্য জলাশয় নিয়ে সংশয় ছিল কিন্তু দফায় দফায় প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত হয়েছে। জাগ দিতে তেমন সমস্যা হয় নি। নতুন পাট হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে। দামও পাওয়া যাচ্ছে সন্তোষজনক। স্বাভাবিকভাবেই পাটচাষিরা সন্তুষ্ট। সোনালী আঁশ খ্যাত পাট নিয়ে অীর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।


তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে পাটের আবাদ বেড়েছে। আগাম জাতের পাট ইতোমধ্যে কেটে জাগ দেয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ শেষ করেছেন অনেক কৃষক। প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। গত বছর মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায় কেনা হয়েছিল। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, মৌসুমের শুরুতেই গত বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম বেশি। দাম পাওয়ায় কৃষক লাভবান হচ্ছেন।


পাট অধিদপ্তর রাজশাহীর তথ্যমতে, চলতি বছর রাজশাহীতে সম্ভাব্য পাট উৎপাদন ৩ লাখ ৮১ হাজার ৬৯৬ কুইন্টাল। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৬০ হাজার ৪৯৪ কুইন্টাল। সে হিসাবে এবার গত বছরের তুলনায় ২১ হাজার ২০২ কুইন্টাল বেশি পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।


পাট উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বাজারে নতুন পাটের দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা সন্তোষজনক মূল্য পাচ্ছেন। এই দাম যদি মৌসুমজুড়ে স্থিতিশীল থাকে, তাহলে পাট চাষ করে কৃষকেরা ভালো লাভ করতে পারবেন। এতে আগামী মৌসুমে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ আরো বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


এই পরিস্থিতি খুবই সম্ভাবনার আবার এটি উদ্বেগ ও দুর্ভাবনার কারণও বটে। পাটের দামের যে সম্ভাবনা উৎপাদনে ও দামে দেখা দিয়েছে তা বেশিদিন স্থায়ী হবে না- সে আশংকাও আছে। পাটের বাজার একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। পাটের বাজারে দালাল, ফড়িয়া ও পাটকল মালিকদের একটি প্রভাবশালী চক্র বা সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রয়েছে। ফলে কৃষকরা প্রায়ই পাটের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে। কখনো কখনো পাটকে কৃষকের ফাঁসের সাথেও তুলনা করা হয়। এই সিন্ডিকেটের কারসাজিতে উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে পাটের দাম কমে যায়, যা চাষিদের আর্থিক লোকসানের মুখে ফেলে। 


বাজারে বর্তমানে কৃষক পাটের সন্তোষজনক দাম পাচ্ছে তা যে কোনো মুহূর্তে সিন্ডিকেট কারসাজি করে পাট মূল্যের পতন ঘটিয়ে ফায়দা নিতে পারে। কৃষকদের লোকসানের মুখে যাতে পড়তে না হয়- সে ব্যাপারে সরকারের নজরদারি প্রয়োজন হবে। সিন্ডিকেটের বাজার নিয়ন্ত্রণের পায়তারা রুখে দিতে হবে। আর সেটা করতে হলে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।