শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬

বৃষ্টি কমতে নিম্নমুখী সবজির দাম, তবুও নেই স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক ২১ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৫২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২১ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৫২ অপরাহ্ন
বৃষ্টি কমতে নিম্নমুখী সবজির দাম, তবুও নেই স্বস্তি

টানা বৃষ্টি থামার পর সরবরাহ বাড়ায় রাজশাহীর কাঁচাবাজারে সবজির দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমলেও বর্তমান দরকে এখনো নাগালের বাইরে বলে মনে করছেন সাধারণ ক্রেতারা। ফলে দামে সামান্য পতন এলেও মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বস্তি ফিরছে না। একদিকে মাংস ও মুরগির দোকানে বাড়তি দামের কারণে ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ, অন্যদিকে সবজি ও মাছের বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।


শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে নগরীর সাহেববাজার ও উপশহর কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। কাঁচা মরিচের দাম ১০০ টাকা। বেগুন গেল সপ্তাহে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন মিলছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। করলা কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। কাঁচকলা এক হালি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৩৫ থেকে ৫০ টাকা। লাউ প্রতিটি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। শসা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। 


অন্যান্য সবজির মধ্যে কাঁচা পেপে ৩৫ থেকে ৪৫  টাকা কেজি, পটল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি, ঢ্যাঁড়শ ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, কাঁকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, বরবটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি ধুন্দল ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি প্রতি এবং চিচিংগা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। শাকের বাজারে লালশাকের প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পুঁইশাক ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 


মসলার বাজারে পেঁয়াজের প্রতি কেজির খুচরা মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৫- ৬০ টাকা। তবে রসুন ও আদার বাজারে বেশ চড়া ভাব লক্ষ্য করা গেছে। দেশি ও আমদানিকৃত রসুন ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং আদা ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির বাজারে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খুব একটা লক্ষণ নেই। বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। 

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা কলেজ শিক্ষক সুলতানা আহমেদ বলেন, বৃষ্টির সময় বলা হলো সরবরাহ কম, তাই দাম দ্বিগুণ। এখন আবহাওয়া ভালো, পণ্য আসছে, তবু কেন সবজির দাম নিচে নামবে না? দাম সামান্য কমেছে ঠিকই, কিন্তু যে বাড়তি চাপ বাজেটে পড়েছে, তা কমেনি।


আমিষের বাজারে মাছ ও মাংসের দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তেলাপিয়া মাছ ২০০ -৩০০ টাকা কেজি, পাবদা মাছ ৩৫০ - ৪০০ টাকা কেজি, কই মাছ ২০০-২৫০ টাকা কেজি, সিলভারকার্প মাছের দাম ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি এবং পাঙ্গাস মাছের দাম ১৭০ থেকে ২৩০ টাকা প্রতি কেজি। এছাড়াও বাজারে ২ কেজির ঊর্ধ্বের বড় রুই মাছের খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং সাধারণ মানের রুই ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। বড় কাতল মাছ প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং সাধারণ কাতল ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের পছন্দের তালিকায় থাকা ইলিশ মাছ (মাঝারি ৫০০-১০০০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা কেজিতে। 


মাংসের বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা এবং খাসির মাংসের দামের বর্তমান রেকর্ড ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় পৌঁছেছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মোরগ-মুরগি ৫৪০ থেকে ৫৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনালী মুরগি পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা । লাল ডিম ৫০ টাকা হালি, সাদা ডিম ৪৪ টাকা হালি এবং হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা 


এদিকে বিক্রেতাদের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। সাহেববাজারের খুচরা বিক্রেতা মজিবুর রহমান বলেন, বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর মাঠ থেকে সবজি তোলা শুরু হয়েছে। আড়তে মাল ঢোকা বাড়ায় পাইকারি দর কিছুটা কমেছে, যার প্রভাব খুচরায় পড়েছে। তবে পরিবহন ও আড়তের কমিশন আগের মতোই বেশি থাকায় দাম একেবারে আগের জায়গায় নামানো সম্ভব হচ্ছে না।