শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬

বাজারে পাটের দর পতন

সোনার দেশ ১৩ আগস্ট ২০২৬ ১১:৪৮ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১৩ আগস্ট ২০২৬ ১১:৪৮ অপরাহ্ন
বাজারে পাটের দর পতন

সরকার নির্ধারিত দর কবে থেকে?

দুই সপ্তাহ আগেই রাজশাহীর বাজারে পাট মণপ্রতি ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে সেই দাম কমে নেমে এসেছে ৩ হাজার ২০০ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকায়। অর্থাৎ মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি পাটের দাম কমেছে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। এতে ভালো ফলন পেয়েও উৎপাদন খরচ ও প্রত্যাশিত লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন রাজশাহীর পাটচাষিরা। অথচ এই কৃষকেরাই দুই সপ্তাহ আগে পাটের দাম পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন। 


পাট মৌসুমের শুরুতে পাটের যে দাম থাকে তা সময়ের ব্যবধানে দামের পতন শুরু হয়। এক পর্যায়ে পাট কৃষকের গলার ফাঁসে পরিণত হয়। প্রতি বছরই কমবেশি বাজার দরের এই নৈরাজ্য হয়ে থাকে। কৃষকের কাছে এ যেন নিয়তির মত হয়ে গেছে। প্রতিকার প্রত্যাশা করলেও সেটা হয় না। শেষ বিবেচনায় তারাই মুনাফা লুটে নেয়- যারা দেশজুড়ে সিন্ডিকেট করে পাটের দর নিয়ন্ত্রণ করে। কৃষকের স্বার্থে এই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়াই বাঞ্ছনীয়। কিন্তু যারা সিন্ডিকেশন করে তারা মোটেও দুর্বল নয়- এ সত্যতার বারবার প্রমাণ মিলেছে। অর্থাৎ ওই গোষ্ঠির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত টেকেনি।  


চলতি পাট মৌসুমের শুরুতেই পাটের দাম নিয়ে আশার সঞ্চার হয়েছিল যে, সরকার প্রথমবারের মত পাটের দাম নির্ধারণ করে দিবে। তবে এই সিদ্ধান্ত এখনো বহাল হয় নি। কৃষক যাতে পাটের ন্যায্যমূল্য পায়-সেটি নিশ্চিত করতেই সরকার এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে । চলতি মৌসুম থেকেই পাটের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দর বেঁধে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে পাট অধিদপ্তর। এ মাসের ৪ তারিখে ‘পাট খাত উন্নয়ন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-৩১)’ নিয়ে অংশিজনদের সঙ্গে একটি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিগগিরই অধিদপ্তর থেকে একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তাব পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ করবে। সংবাদ মাধ্যমের তথ্যমতে, পাটের সর্বনিম্ন দাম মণপ্রতি ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা করার প্রস্তাব এসেছে। আর সর্বোচ্চ দাম ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে।।


বর্তমানে বাজারে পাটের দাম কমে যাওয়ায় ও স্থানীয় বাজারে দরপতনের কারণে চাষিদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে চাষিদের হতাশা কাটবে বলেই ধারণা। একইভাবে সোনালী আঁশখ্যাত পাটের বাজারে শৃঙ্খলাও ফিরে আসবে। সরকারের পাটের প্রস্তাবিত দর শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে সেটাই প্রত্যাশিত।