খেলার মাঠের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ
শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যবিকাশের জন্যই প্রয়োজন
দেশের সকল সিটি কর্পোরেশনে খেলার মাঠের সুব্যবস্থাকরণে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে। এ ব্যাপারে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ১০ আগস্ট বাংলাদেশ সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক সভাপতিত্ব করেন। ওই সভায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক উপস্থিত ছিলেন। সভায় সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মাঠের উন্নয়ন/সংস্কার, অবৈধ দখলদার হতে মাঠ উদ্ধার করার বিষয়ে গৃহীত পরিকল্পনা/কার্যক্রম, প্রতি ২-৩টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে ১টি করে ফুটসাল মাঠ নির্মাণের জায়গা নির্ধারণ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়। নিঃসন্দেহে উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই প্রত্যাশিত।
বলা হয়, ‘খেলার মাঠ’ মানবসভ্যতার বিবর্তন ও ক্রমবিকাশের সাক্ষী। এক একটি খেলার মাঠ এক এক অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে অঅসছে। শারীরিক ও মানসিক বিনোদন ও সুরক্ষায় গড়ে ওঠা ‘খেলার মাঠ’গুলো বহু স্মৃতি-বিস্মৃতির দলিলও বটে।। খেলার মাঠেই বহু শিশুর সামাজিক পাঠ হয়। বন্ধুত্ব, বনিবনা, মনোমালিন্য, হারজিৎ, দ্বন্দ্ব রূপান্তর, নেতৃত্ব, সহানুভূতি, তর্ক-বিতর্ক, সংঘাত কিংবা ভাগাভাগির সংস্কৃতি সবই থাকে খেলার মাঠে। কেবল খেলা নয়, দেশের অনেক মাঠ নানা সামাজিক পর্ব, ধর্মীয় কৃত্য, জমায়েত ও গণআন্দোলনেও ভূমিকা রাখে। ‘খেলার মাঠ’ এক জীবন্ত সত্তা। মানুষের প্রতিদিনের ক্রীড়া, কসরতে খেলার মাঠ ‘খেলার মাঠ’ হিসেবে জীবন্ত থাকে।
শহর ও গ্রামে সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলার মাঠ সংরক্ষণ করা যে অত্যন্ত জরুরি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এটি শিশুদের গ্যাজেট নির্ভরতা কমায়, স্থূলতা রোধ করে এবং সামাজিক মেলবন্ধন তৈরি করে। এছাড়া মাঠগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও নির্মল বায়ু সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ভূমিকা রাখে। খুব স্বাভাবিকভাবেই বলা যায়, খেলার মাঠের সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের অপরিহার্যতা রয়েছে। কিন্তু আমরা এর নিষ্ঠুর ব্যতিক্রমই দেখি। এলাকাভেদে অসংখ্য মাঠ বিলোপ করে সেখানে নানা স্থাপনা গড়ে তোলাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। খেলার মাঠের কত যে প্রয়োজন তা শিশুদের রাস্তায়, অলিগলিতে ক্রিকেট, ফুটবল ও অন্যান্য খেলায় ব্যস্ত থাকতে দেখতে লক্ষ্য করা যায়। অথচ এই শিশুদের জন্য খেলার মাঠের অধিকার সংরক্ষিত হলে তাদের মনোদৈহিক উন্নয়ন অন্যরকম হতো।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়ে এগোচ্ছে তা বাস্তবিক অর্থেই খেলার মাঠের উন্নয়ন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধন করবে সেটাই প্রত্যাশিত। খেলার মাঠের অন্য কোনো বিকল্প হতে পারে না।