বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬

সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় মাকে পিটিয়ে হত্যা!

সোনার দেশ ডেস্ক ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৫৩ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৫৩ অপরাহ্ন
সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় মাকে পিটিয়ে হত্যা!
সংগৃহীত ছবি

সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়া আর টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সিলেটের জকিগঞ্জে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে গুরুতর আহত করেছেন সুমন আহমদ (৩২) নামে এক যুবক। 


এ ঘটনায় গুরুতর আহত পাঁচজনের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মা পিয়ারা বেগম (৬৩)।


আহত অন্য চারজনের মধ্যে রয়েছেন সৎমা, ভাই, ভাবি ও আড়াই বছরের ভাতিজি। 


রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান পিয়ারা বেগম।


এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে সুমন আহমদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


নিহত পিয়ারা বেগম জকিগঞ্জ পৌর এলাকার পঙ্গবট গ্রামের মৃত ফয়জুল ইসলামের স্ত্রী।


পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েকদিন ধরে টাকা দাবি করে আসছিলেন সুমন।


সেই সঙ্গে বাড়ির জায়গা-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দিতে চাপ দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে

তার বিরোধ চলছিল।

এই বিরোধের জেরে সৎমা কুটিনা বেগমকে (৪৫) সুপারিগাছের রুইল দিয়ে আঘাত করেন সুমন। এতে তার


চোখে গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে ছেলের হামলা থেকে রক্ষা করতে অপর ছেলে শাহীন আহমদের ঘরে নিয়ে রাখেন পিয়ারা বেগম।


শনিবার রাত ১১টার দিকে আবারও হামলা চালান সুমন। টাকা ও সম্পত্তি নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি রুইল দিয়ে পরিবারের সদস্যদের পেটান।


এতে পিয়ারা বেগম, কুটিনা বেগম, শাহীন আহমদ (৩৮), তার স্ত্রী শাহানা বেগম (৩২) এবং তাদের আড়াই বছরের মেয়ে ইসরাত জাহান গুরুতর আহত হয়।


স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে পিয়ারা বেগম মারা যান।


পরিবারের অভিযোগ, নেশার টাকার জন্য প্রায়ই চাপ দিতেন সুমন। সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দিতেও পরিবারের সদস্যদের বাধ্য করার চেষ্টা করছিলেন তিনি।


এ ঘটনায় শাহীন আহমদ বাদী হয়ে সুমন আহমদ ও অপর ভাই শামীম আহমদকে (৪৭) আসামি করে মামলা করেছেন।


শাহীন আহমদ জানান, হামলায় তার স্ত্রী ও শিশুকন্যার অবস্থা আশঙ্কাজনক। সৎমা কুটিনা বেগমের চোখের আঘাতও গুরুতর। তিনিও হামলায় আহত হয়েছেন।


জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আহত পিয়ারা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনার পরপরই সুমনকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার তাকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


তিনি বলেন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পিয়ারা বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় মামলায় হত্যার ধারা সংযোজন করা হবে।


তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ