বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬

কড়া নিরাপত্তায় এলো রূপপুর প্রকল্পে চতুর্থ চালানের ইউরেনিয়াম

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন
কড়া নিরাপত্তায় এলো রূপপুর প্রকল্পে চতুর্থ চালানের ইউরেনিয়াম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের চতুর্থ চালানের পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম পৌঁছেছে রূপপুরে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তায় জ্বালানিবাহী তিনটি কাভার্ড লরি প্রবেশ করে প্রকল্প এলাকায়।


এর আগে শুক্রবার রাশিয়া থেকে উড়োজাহাজে ভারতের দিল্লি হয়ে জ্বালানির চালানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে জ্বালানি বুঝে নেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা। শনিবার ভোররাতে বিমানবন্দর থেকে রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয় জ্বালানিবাহী তিনটি কাভার্ডলরি। সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় যমুনা সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া গোলচত্বর হয়ে লরিগুলো পৌঁছায় প্রকল্প এলাকায়। এ সময় মহাসড়কের বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ সতর্ক প্রহরায় ছিল। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও।


ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, জ্বালানি পরিবহনের সময় যানজট এড়াতে মহাসড়কে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল ভারী যানবাহন চলাচল। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হয় পুরো পরিবহন কার্যক্রম। 


তথ্য অনুযায়ী রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ৭টি কার্গোতে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার কথা আছে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটে জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য দুটি কার্গোতে দেশে আনা হবে আরও ৪৮টি অ্যাসেম্বলি। এর অংশ হিসেবে দ্বিতীয় ইউনিটের চতুর্থ চালানটি শনিবার সকালে রূপপুরে পৌঁছেছে।


আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে আরও পাঁচটি ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামের চালান দেশে আসার কথা আছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে ডিসেম্বরের মধ্যে।


এর আগে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি দেশে পৌঁছায়। ওই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে আরও চারটি চালানে জ্বালানি রূপপুরে নেওয়া হয়। চলতি বছরের মে মাসে প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়। প্রায় দেড় বছর পর ব্যবহৃত জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্য গত ৩ অক্টোবর প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানির একটি চালান রূপপুরে আনা হয়। সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর সকালে দ্বিতীয় ইউনিটের তৃতীয় চালানের জ্বালানি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।


চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর নির্ধারিত সময় পরপর জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।


প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থাপনের কাজ শেষ হলেও বিভিন্ন কারিগরি জটিলতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি পিছিয়েছে। গত আগস্টে ইউনিটটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল। তবে স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমনব্যবস্থার (সেফটি) ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর ভালভটির তৃতীয় দফা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর ১১ অক্টোবর প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করেন। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে প্রথম ইউনিটে বি-২ ধাপের ফিজিকস টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এরপর গত ২৯ অক্টোবর পরমাণু নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার মধ্য দিয়ে ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘স্টেজ-সি’ বা ‘পাওয়ার স্টার্টআপে’ প্রবেশ করে। এ পর্যায়ে ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কেন্দ্রটির বিভিন্ন ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে।


প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আগামী নভেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিটের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে এ ইউনিটের জন্য জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছে।