রাবি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় অ্যালামনাই সম্মিলন অনুষ্ঠিত
নানা আয়োজন-অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের তৃতীয় সম্মিলন অনুষ্ঠিত হলো। সম্মিলনের দ্বিতীয় দিনে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৯টায় সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনের চত্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম ও সম্মানীত অতিথি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ এবং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর এম সাদেকুল ইসলাম যথাক্রমে জাতীয় পতাকা, রাবি পতাকা ও অ্যাসোসিয়েশনের পতাকা উত্তোলন করেন। সেখানে বেলুন-ফেস্টুন ও পায়রাও উড়ানো হয়। এরপর সম্মিলনে অংশগ্রহণকারীদের এক শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এসময় বিভাগের সভাপতিসহ শিক্ষক ও সম্মিলনে অংশগ্রহণকারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরে বেলা ১০:৩০ মিনিটে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় সম্মাননা প্রদান ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও বিশেষ অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর এম সাদেকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার তাঁর বক্তব্যে রাবি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে স্মৃতিচারণ করে বলেন, জীবনে ইচ্ছা থাকলে, স্বপ্ন থাকলে তা পূরণে প্রত্যয়ী হতে হবে; নিশ্চয়ই সেই স্বপ্ন পূরণ হবে। কর্মজীবনে সততা ও নিষ্ঠার চেয়ে বড় সম্পদ আর কিছু নেই। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২৫ জন করে অসচ্ছল ছাত্র ও ছাত্রীকে মাসে দুই হাজার হারে বৃত্তি প্রদানের আগ্রহের কথা জানান। তিনি রাবি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা ও অর্থের হার বাড়ানো এবং ৮টি আবাসিক হল নির্মাণ প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্নের বিষয়েও আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথি উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনার বাইরেও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমিতির মাধ্যমে অবদান রাখার সুযোগ আছে। সরাসরি শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়াও শিক্ষা সহায়ক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে, যেমন বৃত্তি ও অনুদান প্রদান, গ্রন্থাগারে বইপত্রের ব্যবস্থা করা ইত্যাদির প্রতি তারা ভূমিকা রাখতে পারে। বিদেশে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনগুলি নিজ বিভাগ তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সেই সূত্রে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গক্রমে উপাচার্য রাবির উন্নয়নে কয়েকটি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মনোযোগ আকর্ষণ করলে মুখ্য সচিব সে বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সম্মানিত অতিথি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে গতানুগতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য বলেন। এই বিভাগে যেসব খ্যাতনামা শিক্ষকরা অধ্যাপনা করেছেন তাঁদের কর্মকে তুলে ধরতে, শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সুবিধাসহ শিক্ষা সহায়ক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধায় অবদান রাখতেও বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানান।