মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়নে সচেতনতা বাড়াতে খরা প্রবণ উত্তর অঞ্চলীয় কৃষক মাঠ দিবস
দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ এলাকায় মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন, উর্বরতা বৃদ্ধি এবং টেকসই ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজশাহী ও নওগাঁয় দুই দিনব্যাপী কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ৩০ ও ৩১ অক্টোবর যথাক্রমে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ী এবং নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুরে এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষক, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীসহ মোট ১৩৫ জন অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে পাকড়ীতে ৮০ জন এবং রসুলপুরে ৫৫ জন অংশ নেন।
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চলে কৃষির সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচালিত ‘ডেভেলপিং অ্যান্ড ট্রান্সলেটিং সয়েল হেলথ ইনফরমেশন ইন বাংলাদেশ উইথ ফার্মার্স অ্যান্ড ফর ফার্মার্স টু বিল্ড রেজিলিয়েন্ট এগ্রিকালচারাল সিস্টেমস’ শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। প্রকল্পটি অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চের (এসিআইএআর) অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বিএইউ), মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) এবং সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন (এসএএফ) বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের প্রধান অধ্যাপক ড. বিপ্লব কুমার সাহা প্রকল্পের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খরাপ্রবণ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদনশীলতা ধরে রাখতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি কৃষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কার্যকর মাটি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গড়ে তুলতে হবে।
কারিগরি অধিবেশনে অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আরিফুর রহমান চলমান মাঠ গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি ভার্মিকম্পোস্ট, বায়োচার, গোবর ও ট্রাইকো-কম্পোস্টসহ বিভিন্ন জৈব উপাদান এবং সুপারিশকৃত সুষম সার ব্যবস্থাপনার প্রভাব নিয়ে পরিচালিত গবেষণা সম্পর্কে আলোচনা করেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ও প্রকল্পের সহ-পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্ত. জন্নাতুন নাহার কৃষি গবেষণায় কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা হলে এলাকার উপযোগী কৃষি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি উদ্ভাবন সহজ হবে।
এসময় আর বক্তব্য রাখেন এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন (এসএএফ) বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. শহিদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পাকড়ী এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান প্রমূখ।