‘স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করা যুবকের দায় স্বীকার
রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের ছবি দিয়ে ফেসবুকে করা পোস্টে স্নাইপার দিয়ে গুলি করার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের জেরে গ্রেপ্তার যুবক আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। রবিবার (১ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এদিন সাত দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের এসআই মো. ইয়াছিন পাইক ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ২১ অক্টোবর গভীর রাতে রাজশাহীর পবা থানার কচুয়াতৈল এলাকার বাসা থেকে আবু বকর সিদ্দিক নামের ওই যুবককে আটক করে এসআরবি। গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত ২৩ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২৫ অক্টোবর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ২০ অক্টোবর বেলা ৩টার দিকে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে করে তিনি নগরীতে প্রবেশ করেন। এ সময় সড়কের দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানান। চলন্ত বাস থেকে হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ওই বাসে করেই ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে যোগ দেন তিনি।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে একটি মন্দির পরিদর্শন শেষে একই বাসে করে তিনি আবার শাহ মখদুম বিমানবন্দরে ফিরে যান। এদিকে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীর সফরে ব্যবহৃত বাসের ছবি দিয়ে একটি পোস্ট করা হয়।
পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘সবই বুঝলাম রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই, রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কি জানেন রাজশাহীবাসী?’ ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে এমডি আবু বকর সিদ্দিক নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ইস! একটা বড় সুযোগ ছিল। শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’
মন্তব্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। এ ঘটনায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের এসআই মো. মানিক হোসেন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন।