মিরপুরে চালু থাকা দুই পোশাক কারখানায় হামলা-ভাঙচুর
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের তৃতীয় দিনে মিরপুরের অন্তত দুটি পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে মিরপুর-২ নম্বর বড়বাগ এলাকার সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেড ও দেশওয়ান অ্যাপারেলস নামে দুটি পোশাক কারখানায় এমন ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠান দুটির দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ভাষ্য-হামলার সময় প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন। পরে প্রতিষ্ঠানের সামনে আন্দোলনকারীরা জড়ো হয়ে হামলা চালায়। তবে, হামলা-ভাঙচুরের আগ মুহূর্তে আন্দোলনকারীরা জড়ো হলে কর্মীদের ছুটি ঘোষণা করে কারখানা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেশওয়ান অ্যাপারেলস ঘুরে ও দায়িত্বরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলা আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির সামনে যান আন্দোলনরতরা। সেখানে গিয়ে এই কারখানার সামনে অবস্থান নিলে কাজ করতে থাকা শ্রমিকরা প্রতিষ্ঠানটি রক্ষার্থে নিচে নেমে আসেন। পরে সামনে থাকা আন্দোলনকারীরা ইট ছুড়ে মারেন। এতে কারখানার সামনের অংশের কাচ ভেঙে যায়।
দেশওয়ান অ্যাপারেলসের মানবসম্পদ কর্মকর্তা সামিরুদ্দীন নওশাদ বলেন, আমাদের কারখানার সামনে জড়ো হয়ে তারা ইট মেরে কাচ ভেঙেছে। এর মধ্যে আমাদের শ্রমিকরা নেমে এসে ভাঙচুরে বাধা দেন। তখন তারা পাশের (সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন) কারখানার দিকে চলে যান।
এ সময় বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ বলতে থাকেন এই গার্মেন্টস ছুটি দিয়েছে। পাশেরটাতে কাজ চলছে ওখানে চল। পরে তারা পাশের গার্মেন্টসে গিয়ে ভাঙচুর চালায় বলেও জানান তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, যারা এসেছিল তারা কেউই শ্রমিক নয়। সবাই টোকাই। আমরা কাজ চালু রেখেছিলাম কারণ শিপমেন্ট ও শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার সময় হয়ে গেছে। কাজ না চললে শিপমেন্ট মিস হবে। আমরা বেতন দিতে পারবো না। এই বিষয়টা আমাদের শ্রমিকরাও জানেন। তাই তারা কাজে আসছেন। নিজেরাই কারখানা রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন। ওরা চলে যাওয়ার পরই আমরা আবার কাজ শুরু করেছি।
এরপর সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডের কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, গার্মেন্টসটির নিচে থাকা অভ্যর্থনা কক্ষটি ভাঙচুর করা হয়েছে। সেখানে থাকা সিসিটিভি মনিটর, চেয়ার-টেবিল, কক্ষের কাচসহ শ্রমিকদের পাঞ্চমেশিন (ডিজিটাল হাজিরা যন্ত্র) ভাঙচুর করা হয়েছে।
এছাড়া কারখানার চারতলায় ভাঙচুর করা হয়েছে। এই সময় কাচের আঘাতে একজন সিকিউরিটি গার্ডের হাতও কেটে গেছে, যার রক্ত পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
সিরাজগঞ্জ ফ্যাশন লিমিটেডের সিকিউরিটি সুপারভাইজার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এক-দেড়শ লোক এসে ফ্যাক্টরিতে হামলা চালায়। তারা ফ্যাক্টরির বিভিন্ন জিনিসপত্র ও কিছু যন্ত্রপাতিও ভেঙে ফেলেছে।
কারখানার প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে আমাদের শ্রমিকরা কাজ করছিল। হুট করেই বাইরে থেকে আসা শতাধিক লোক আমাদের এখানে হামলা ও ভাঙচুর করে। তারা যখন আসে তখন আমরা আমাদের শ্রমিকদের নামিয়ে দেই। তারপরও ভাঙচুর চালায়।
ভাঙচুরকারীরা কারা এবং এসবের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূলত শ্রমিক আন্দোলন চলাকালীন আন্দোলনকারীরা চায় সব কারখানাই বন্ধ থাকবে। তখন যদি অন্য ফ্যাক্টরি চালু থাকে এবং তারা আন্দোলনে যদি না যায়, তাহলে রাস্তায় নামা অন্য শ্রমিকরা কাজ চলতে থাকা কারখানায় হামলা বা ভাঙচুর করে। আমাদের এখানেও হয়তো তাই হয়েছে। আমাদের এখানে যারা এসেছিল তাদের অনেকের গলায় আইডি কার্ড দেখেছি। তবে ভাঙচুরে আমাদের শ্রমিকরা ছিল না।
এদিকে এ ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটকে সাময়িক বন্ধের ঘোষণা দিয়ে একটি লিখিত কাগজ টাঙিয়ে দিতে দেখা গেছে।
এর আগে, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় উপস্থিত হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম (ক্রাইম ও প্রিভেনশন উত্তর) বলেন, গতকাল যখন শ্রমিক মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছে, গঠন হওয়ার পরে এটা শ্রমিকদের, শ্রমিকরা যখন জেনে গেছেন, এটা যখন মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে, সবাই জানে। এরপরে তাদের দাবির বিষয়ে কাজ চলমান, এ বিষয়ে আর রাস্তা বন্ধ করা, রোড ব্লক করা, গাড়ি ভাঙচুর করা বা কোনো ধরনের ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর করা-এসবের কোনো কারণ আমরা দেখছি না।
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ