শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

মান্দায় ঘুষের বিনিময়ে মাদকসেবীকে গ্রাম পুলিশে নিয়োগের অভিযোগ

WP Import ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:০৪ অপরাহ্ন
WP Import ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:০৪ অপরাহ্ন
মান্দায় ঘুষের বিনিময়ে মাদকসেবীকে গ্রাম পুলিশে নিয়োগের অভিযোগ
মান্দায় ঘুষের বিনিময়ে মাদকসেবীকে গ্রাম পুলিশে নিয়োগের অভিযোগ


মান্দা প্রতিনিধি :


নওগাঁর মান্দা উপজেলার কশব ইউনিয়নে ঘুষের বিনিময়ে একজন মাদকসেবীকে গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত সাগর হোসেন (২২) ওই ইউনিয়নের তেগাড়া গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কশব ইউনিয়নের ৩, ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে গ্রাম পুলিশের শূন্যপদে নিয়োগের জন্য গত ২৭ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আবেদন করেন ইমরান হোসেন, সাগর হোসেন ও সাদিয়া আফরিন রিমি। গত ১৫ নভেম্বর ইউএনও কার্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকাশিত ফলাফলে সাগর হোসেনকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে।

এলাকার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাগর হোসেন নিয়মিত মাদক সেবন করেন। সম্প্রতি পলাশবাড়ী বাজারে মদ্যপ অবস্থায় মোটরসাইকেল ধাক্কা দিয়ে একজনের যানবাহনের ক্ষতি করেন। পরে স্থানীয়ভাবে তিন হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ইমরান হোসেনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য একজন ইউপি সদস্যের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা কামরুল আরেফিন। টাকা না দিতে পারায় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ইমরান হোসেনকে পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে।

ইমরানের বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ছেলের চাকরির জন্য চেয়ারম্যানের কথা বলে একজন মেম্বার আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই। তাই আমার ছেলের চাকরি হয়নি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক কামরুল আরেফিন বলেন, ‘ইউএনও কার্যালয়ে গঠিত নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে পরীক্ষা হয়েছে। যারা ভালো করেছেন, তাদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। টাকা দাবি বা পরীক্ষার ফলাফলে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। নিয়োগপ্রাপ্ত সাগর মাদক সেবনকারী কি না, তাও আমার জানা নেই।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, ‘ডোপ স্টেটে নিয়োগপ্রাপ্তদের একজন পজিটিভ হয়েছেন। পজিটিভ ব্যক্তির চাকরি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’#