রাণীনগরের আমগ্রামে প্রবাসী স্ত্রীর ‘বিয়ে বিয়ে খেলা’

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর রাণীনগরের আমগ্রামে চলছে এক প্রবাসী স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামের মাতবর ও বিএনপি নেতারা ফায়দা অতি কৌতুহলি হয়ে উঠেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত পরকিয়া প্রেমিকের কাছ থেকে পুলিশ ও সাংবাদিক ম্যানেজ করার নামে গ্রামের মাতবর ও বিএনপি নেতা ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে আনোয়ার হোসেন ও তার সঙ্গীরা ১৭ হাজার টাকা আদায় করেছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া এই বিষয়ে কোন তথ্য নিতে সাংবাদিকরা ওই গ্রামে গেলে তাদের মারপিট করার হুশিয়ারিও প্রদান করেছে ওই বিএনপি নেতা মো. আনোয়ার হোসেন। বর্তমানে ওই প্রবাসীর স্ত্রী প্রায় ১২বছর সংসারের পর প্রথম স্বামীকে তালাক দিয়ে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করার একদিন পর পুনরায় ওই প্রেমিককে তালাক দিয়ে আবার প্রথম স্বামীকে বিয়ে করার গুঞ্জন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের আমগ্রামের গ্রামের গ্রাম প্রধান (মাতবর) মৃত-মুকুল উদ্দিনের ছেলে মো. হাসান আলী জানান, ওই গ্রামের মৃত-রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে প্রবাসী হেলাল প্রায় ১২বছর যাবত প্রবাসে রয়েছে। বাড়িতে তার স্ত্রী ও ১২বছরের এক ছেলে রয়েছে। তার স্ত্রী মুক্তির সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে একই গ্রামের মৃত-মোফাজ্জল হোসেনের বিবাহিত ছেলে হাফিজুল ইসলামের।
গত মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দিবাগত রাতে মুক্তির ঘরে হাফিজুলের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয়রা দু’জনকে আটক করে। পরে গ্রামের অন্য মাতবর বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন, আনোয়ারের ভাই চা দোকানী আঙ্গুর ও ফিরোজের নেতৃত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রবাসী হেলাল ওই মেয়ের সঙ্গে আর সংসার করবে না এবং মুক্তি ও হাফিজুল উভয়কে ভালোবাসে মর্মে তারা বিয়ে করে সংসার করবে তাই পরের দিন বুধবার তারা আদালতের মাধ্যমে বিয়ের কাজটা সম্পন্ন করবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ
রপর কি হয়েছে তা হাসানের জানা নেই বলে তিনি জানান। এই বিষয়ে কোন পক্ষের কাছ থেকে কোন প্রকারের জরিমানা আদায় করা হয়নি এবং কেউ করেছে কিনা সেই বিষয়টিও তার জানা নেই বলে মাতবর হাসান জানান।
কালীগ্রাম ইউনিয়নের কাজী মো. হেলাল উদ্দিন জানান, গত মঙ্গলবার রাতে গ্রাম্য বৈঠকে গৃহিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গৃহবধূ মুক্তি ও হাফিজুল বুধবার (২৬ নভেম্বর) আদালতের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করে। পরে একদিন পর শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) গৃহবধূ মুক্তি তার কাছে এসে হাফিজুলকে খোলা তালাক প্রদান করেছে। এরপর ওই গৃহবধূ আবার তার প্রথম স্বামী প্রবাসী হেলালকে বিয়ে করেছে কিনা তা তার জানা নেই। এছাড়া ওই গ্রাম্য বৈঠকে কোন পক্ষের অর্থ জরিমানা করা হয়েছে কিনা সেই বিষয়টিও কাজীর জানা নেই বলে জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাফিজুল মুঠোফোনে জানান, তারা একে অপরকে দীর্ঘদিন থেকে ভালোবেসে আসছে। তাদের মাঝে একাধিকবার শারীরিক মেলামেশাও হয়েছে। সে মুক্তিকে নিয়ে ঘর সংসার করতে চেয়েছিলো। তাই সে গ্রাম্য বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়া আদালতের মাধ্যমে বিয়েও করেছিলো।
কিন্তু পরে মুক্তি জানায় সে তার সঙ্গে সংসার করবে না। তাই সে গত শুক্রবার তাকে খোলা তালাক দিয়েছে। আর পুলিশ ও সাংবাদিককে ম্যানেজ করার জন্য সে আনোয়ারকে অর্থ দিয়েছে কিনা এই বিষয়ে জানতে চাইলে সে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
হাফিজুল ইসলামের মা মোছা. হাসিনা জানান, তিনি বিষয়টি লোকমুখে শুনেছেন। কিন্তু হাফিজুল ওই মেয়েকে নিয়ে এখন পর্যন্ত বাড়িতে আসেনি। আবার ওই মেয়ে হাফিজুলের সঙ্গে ঘর সংসার করবে না মর্মে শোনা যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
গ্রাম্য মাতবর ও বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান যে, পুলিশ ও সাংবাদিককে ম্যানেজ করার জন্য তিনি কোন পক্ষের কাছ থেকেই টাকা গ্রহণ করেননি। গ্রামের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে তিনি গ্রামবাসীদের সম্মতিতে গ্রাম প্রধানসহ অন্যদের নিয়ে বৈঠক করেছেন মাত্র। কিন্তু সরকারিভাবে যে কোন বিষয়ে গ্রাম্য শালিস নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এরপরও তারা গ্রাম্য শালিস করেছেন কেন এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রামবাসীর অনুমতিতেই এমন বৈঠক করা হয়েছে। এছাড়া সাংবাদিকদের মারপিট করার হুমকি প্রদানের বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হাফিজ মো. রায়হান জানান, আমগ্রামের ওই বিষয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করার কথা বলে কোন এক পক্ষের কাছ থেকে কথিত কোন ব্যক্তি অর্থ আদায় করেছে মর্মে বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। দ্রুতই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তিনি জানান।