শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ধর্ষণ মামলায় কারাগারে হড়গ্রাম টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ

WP Import ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৪৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৪৪ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী মহানগরী হড়গ্রাম মডেল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মারুফ হোসেনকে ধর্ষণ মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরের দিকে আদালতে জামিনের আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শরনিম আক্তার।
২০২৩ সালের ২১ এপ্রিল রাজশাহীর হড়গ্রাম মডেল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মারুফ হোসেনের বিরুদ্ধে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় ধর্ষণ মামলা করেন একই কলেজের এক নারী প্রভাষক। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল অভিযোগপত্র জমা দেয় তদন্তকারী কর্মকর্তা। তদন্তে অধ্যক্ষ মারুফ হোসেনকে অভিযুক্ত করে এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মারুফ হোসেন মামলার বাদীর আপন মামাতো ভাই। রাজশাহী হড়গ্রাম মডেল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ। আত্মীয় ও চাকরির সুবাদে বাড়িতে এবং কর্মস্থলে তার সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট ভুক্তভোগীর বাড়িতে কেউ না থাকায় তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে চাকরির সমস্যা হবে বলে হুমকি প্রদান করে। ঘটনাটিকে পুঁজি করে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর ওই নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে মামলার বাদী বিয়ের কথা বললে অধ্যক্ষ মারুফ অস্বীকৃতি জানায় এবং নানারকম ভয়ভীতি দেখিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। শুধু তাই নয় কর্মস্থলে মিথ্যা অভিযোগ এনে নানারকম কৈফিয়ত তলব করে অধ্যক্ষ মারুফ। এছাড়াও কলেজর সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দিয়ে নানা রকম হয়রানি করা হয়।

মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার এড়াতে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মারুফ আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৮ মে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। জামিনের মেয়াদ শেষে ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ হাজির হয়ে পবিত্র হজে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
এরপর ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট মামলাটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসলে সেখানে বদলী জামিন নেন অধ্যক্ষ মারুফ হোসেন। এরপর চলতে থাকে নিয়মিত হাজিরা। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা না মঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম জানান, আদালত এই মামলার বাদী এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি-তর্ক শুনে এই আদেশ দিয়েছেন। তবে আগামীতেও ন্যায় বিচার পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।#