সীমান্তের শূন্যরেখায় শেষবার বোনের মুখ দেখলেন বাংলাদেশি ভাই

শিবগঞ্জ সীমান্তের শূন্যরেখায় শেষবারের মতো মৃত বোনের মুখ দেখার সুযোগ পেলেন বাংলাদেশি ভাই
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
বোন ভারতীয়, ভাই বাংলাদেশি। একই বাবা-মায়ের ঘরের সন্তান হলেও দুজনের জাতীয়তা ভিন্ন। সীমান্তের ওপারে ভারতে বোন সেলিনা বেগমের (৭০) মৃত্যু হয়। শেষবারের মতো প্রিয় বোনের মুখখানি দেখতে সেখানে ছুটে যেতে চান এপারে বসবাসকারী ভাই তোফাজ্জাল হোসেন। কিন্তু মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায় দুই দেশের সীমান্ত, যা পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়া পাড়ি দেয়া যায় না। তবে শেষ পর্যন্ত বোনের মরদেহ দেখতে ভাইয়ের ভিসা-পাসপোর্টের দরকার পড়েনি। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মানবিক উদ্যোগে সীমান্তের শূন্যরেখায় শেষবারের মতো বোনের মুখ দেখার সুযোগ পান ভাই।
ঘটনা ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আজমতপুর সীমান্তে। শনিবার (৮ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ৫৯ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধীনস্থ আজমতপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১৮২/২-এস এর কাছে শূন্যলাইনে বিজিবি-বিএসএফের উপস্থিতিতে বোনের মরদেহ দেখানো হয়। এ সময় শেষবারের মতো বোনের মুখ দেখতে পেয়ে বাংলাদেশি ভাই ও আত্মীয়-স্বজনরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান সেলিনা বেগম (৭০)। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার শ্বশানী চকমাহিলপুর এলাকার মৃত গাজলুর রহমানের স্ত্রী সেলিনা বেগম। সংবাদ পেয়ে নিহতের ভাই তোফাজ্জাল হোসেন বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দেখার আবেদন জানালে এই ব্যবস্থা করে বিজিবি-বিএসএফ।
তোফাজ্জাল হোসেন ও সেলিনা বেগম বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাগিচাপাড়া গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের সন্তান।
৫৯-বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া জানান, সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চোরাচালান বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি বিজিবি অত্যন্ত মানবিক। এই ধরনের মানবিক কাজের প্রতি তারা অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। বিজিবি সব ধরনের মানবিক কাজ মৌলিক কর্তব্য হিসেবে সম্পাদন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে। এরই ধারাবাহিকতায় দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে তাদের মৃত স্বজনকে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে বিজিবি।