দুর্গাপুরে আগাম ফুলকপি চাষে কৃষকের মুখে হাসি

গোলাম রসুল,দুর্গাপুর:
রাজশাহী দুর্গাপুরে আগাম ফুলকপির চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। বর্তমানে জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে এসব ফুলকপি। এতে ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষক। ফুলকপির পাশাপাশি আগাম জাতের বাঁধাকপি, বেগুন, মুলা, লাল শাক, পালং শাক, ধনেপাতা ও টমেটোসহ নানান সবজির চাষাবাদ করেছেন তারা। হঠাৎ বর্ষণে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অধিকাংশ জমি থেকে পানি নেমে যাওয়ায় বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই অনুকূলে চলে এসেছে। প্রতিবছর উপজেলার কানপাড়া, দাউকান্দি, গগনবাড়িয়া এলাকায় আগাম জাতের সবজির চাষাবাদ করা হয়। বিশেষ করে উপজেলা জয়নগর ইউনিয়ন এলাকাকে সবজির ইউনিয়ন বলা হয়। ওই ইউনিয়ন এলাকায় সব চেয়ে বেশি সবজি চাষ করা হয়। চাষিদের উৎপাদনকৃত সবজি বাজারে নিয়ে যেতে হয় না। পাইকাড়রা জমি থেকেই কিনি নিয়ে যায় সেসব সজবি।
সরজমিনে জয়নগর ইউপির গগনবাড়িয়া মোড়, চুনিয়া পাড়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পাইকারি ক্রেতাদের নিকট ভোর থেকে সকাল ১০ পর্যন্ত বিক্রির ধুম পড়ে যায়। কৃষক – কৃষাণী খেত থেকে ফুলকপি সংগ্রহ করে, পরিমাপ করে বিশাল টুকরিতে স্তরে, স্তরে সাজিয়ে দরদাম করে বিক্রি করেছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্ষার পরপরই শীতে আগে আগস্ট মাসে ফুলকপির চারা রোপণ হয়। আগামী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাবে। এবারে এ উপজেলায় আগাম ২০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষাবাদ হয়েছে। কম সময়ে ভালো ফলন হওয়ার পাশাপাশি অধিক মুনাফা পাওয়ায় অনেক চাষি এখন ফুলকপি চাষে ঝুঁকছেন। শুরুতে ৪ হাজার টাকা প্রতি মন বিক্রি হলেও বর্তমানে দাম অর্ধেকে নেমেছে। তার পরেও চাষিরা খুশী এমন দামে।
চুনিয়াপাড়া এলাকার কৃষক মহরম আলী জানান, ‘দেড় বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি চাষাবাদ করেছি। এর মাঝে আট কাঠা জমি ১ বছর মেয়াদে ১৫ হাজার টাকায় টেন্ডার নিয়েছি। ফুলকপি উৎপাদন করতে ৫০ হাজার টাকা মতো খরচ হয়েছে। ১ সপ্তাহ থেকে ফুলকপি সংগ্রহ শুরু করেছি। প্রথম দিন সাড়ে তিন মন হয়েছিলো। ১৮শত টাকা থেকে ২ হাজার টাকা প্রতি-মন বিক্রি করেছি। আশাকরি ২ লক্ষ টাকার মতো ফুলকপি বিক্রি করতে পারবো।,
ফুলকপি চাষি শরিফুর ইসলাম বলেন, ‘এই এলাকার চাষিরা সবার আগে ফুলকপি চাষ করে থাকেন। আগাম ফুলকপি চাষ করে চাষিরা অনেক লাভবান হয়। তাই আমরা আগাম ফুলকপি চাষ করে থাকি। তাদের এলাকায় অনেক চাষি ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা বিঘা প্রতিবছর জমি লিজ নিয়েও ফুলকপি ও অন্যান্য ফসল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। বিশেষ করে আগাম সবজি চাষ করতে পারলেই লাভবান হবেন চাষিরা।,
পাইকারি ক্রেতা আহসান হাবিব জানায়, ‘রাজশাহীর ফুল সবচেয়ে সেরা দেশের বিভিন্ন বাজারে ফুলগুলো সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হয়ে থাকে। চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়ার তুলনায় রাজশাহী অঞ্চলের ফুলগুলো গুণগত মান অনেক ভালো হয়। ফলে কৃষকেরাও ন্যায্য মূল্য পায় আমরাও বেশি দামে বিক্রি করতে পারি। আমি প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ মন ফুলকপি সংগ্রহ করে একাধিক ট্রাকযোগে ঢাকায় ও শ্রীপুর কুমিল্লায় পাঠাই। এই এলাকায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত প্রায় ১৫ জন পাইকারি ক্রেতা ফুলকপির পাশাপাশি লাউ,কুমড়, মুলা, বাঁধাকপি সংগ্রহ করে থাকি।’
দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী জানান, ‘এবারে শীতকালীন আগাম ফুলকপির বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছে। হঠাৎ বৃষ্টিতে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও অধিকাংশ জমি থেকে পানি নেমে গেছে। আমরা কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’