জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান: রায়হান

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জেলা বিএনপির সদস্য মো. রায়হানুল আলম রায়হান বলেছেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান একই সূত্রে গাঁথা- উভয় আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জনগণের ভোটাধিকারের পুনরুদ্ধার। তিনি আরও বলেন,“বাঙালি জাতির ইতিহাসে প্রতিটি গণআন্দোলনের পেছনে ছিল মানুষের মৌলিক অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম।
পঁচাত্তরের ৭ই নভেম্বর সেই চেতনার প্রতীক; আর চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান তার আধুনিক রূপ। এই দুই ঐতিহাসিক অধ্যায়ই বাঙালি জাতিকে শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেছে।”শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের আশরাফের মোড়ে উপজেলা বিএনপির আয়োজিত ‘৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন। দিবসটি উপলক্ষে সকালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ানো এবং শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রায়হান বলেন,“১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ও সার্বভৌম মর্যাদার সূচনা হয়েছিল। তখন সেনা-জনতার ঐক্য গণতন্ত্রের পথে নতুন দ্বার খুলেছিল। একইভাবে, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই ৭ই নভেম্বর কেবল একটি দিন নয়, এটি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। এই চেতনা আজ আবার জাগিয়ে তোলার সময় এসেছে।”
তিনি আরও বলেন,“শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন এক ভিশনারি নেতা, যিনি স্বাধীনতার পর ভাঙা রাষ্ট্রকে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরেই আমরা ‘বাঙালি’ থেকে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেছি। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ছিল জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।”
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে রায়হান বলেন,“৭ নভেম্বরের চেতনা গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক মুক্তি, শান্তি-শৃঙ্খলা, সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার প্রতীক। গত ১৫ বছরে দেশে একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হয়েছিল; গণতন্ত্রের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণ বারবার প্রমাণ করেছে, তারা গণতন্ত্রের পক্ষে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সেই ঐতিহাসিক প্রতিরোধেরই ধারাবাহিকতা।”
তিনি আরও বলেন,“ফ্যাসিবাদ যাতে আর কখনো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে, তার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট নয়—এটি মানুষের মর্যাদা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা। এই মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো কাজ করে যাবে।”
ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে রায়হান বলেন,“১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দেশে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেনা অভ্যুত্থানের পর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়। তখন সৈনিক ও সাধারণ মানুষ মিলেই ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লব ঘটায়। সেই আন্দোলনে বন্দিদশা থেকে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন এবং পরে দেশের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি জাতীয় ঐক্য, আত্মনির্ভরতা ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন করেন।”
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি খায়রুল ইসলাম, হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা হিটলার, পবা উপজেলা শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাজদার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মুস্তাক আহমেদ। অনুষ্ঠানে পবা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।