রাজশাহীতে বাড়ছে ছিনতাই ও ডাকাতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ। পুলিশের নজরদারির বাইরে পথচারী কিংবা ব্যবসায়ীরা নিয়মিত ছিনতাইকারীদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন। সম্প্রতি রাজশাহী মহানগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় পরপর কয়েকটি ঘটনায় ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছে।
গেল ১৫ অক্টোবর রাত পৌনে ১১টার দিকে তানোর উপজেলার মু-ুমালা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইকারীর আঘাতে গুরুতর আহত হন বিকাশ এজেন্ট নাসির উদ্দিন। মুখোশধারী ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং মাথায় সজোরে আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় নাসির উদ্দীনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।
নাসির উদ্দিনের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন জানান, ঘটনার পর থেকে নাসির উদ্দিন মানসিক ভারসাম্য হারানোর পথে। আমার স্বামী এখন আর ঠিকভাবে কথা বলতে পারে না। ওর মাথায় মারাত্মক আঘাত লেগেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি। আমরা এখন খাওয়াদাওয়াও ঠিকমতো করতে পারি না।
নাসিরের ভাই তাছির উদ্দিন জানান, ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং ছিনতাইকৃত টাকাও উদ্ধার হয়নি। এতে স্থানীয়রা ক্ষোভে ফুঁসছেন। ঘটনাটি এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, গত ২৫ অক্টোবর একই উপজেলার চৌবাড়িয়ায় ব্যবসায়ী ফটিক হাসানের বাড়িতে তিন ডাকাত প্রবেশ করে তার স্ত্রী ও সন্তানদের জিম্মি করে নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেলসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এঘটনায় মামলা হলেও গ্রেফতার হয়নি কেউই।
সম্প্রতি রাজশাহী মহানগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। শহর ও উপজেলার সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, রাতের বেলায় চলাচল এখন ভয়ানক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা মনে করছেন, পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।
রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন ফঁ^াকা সড়কে ছিনতাই বেড়েছে। এসব সড়কে টার্গেট থাকে রিকশায় একা যাওয়া নারীরা। মোটরসাইকেল নিয়েও দুই থেকে তিনজন চাকু অথবা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছিনতাই করছে অল্প বয়সী যুবকরা। নগর ও গ্রামীণ এলাকায় রাতের নিরাপত্তা জোরদার করা, সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো এবং স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশিং কার্যকর করা ছাড়া অপরাধ দমন করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নাগরিকরা আশা করছেন, পুলিশ প্রশাসন দ্রুত এই ছিনতাই ও ডাকাতির প্রবণতা কমিয়ে নিরাপদ নগরী হিসেবে রাজশাহীর ভাবমূর্তিকে ফিরিয়ে আনবে।
রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত জেলায় ৭টি ছিনতাই ও ৭টি ডাকাতির মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় মোট ৩৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রাজশাহী মহানগরীতেও একই সময়ে ২১টি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৫৫ জনকে গ্রেফতার করেছে মহানগর পুলিশ (আরএমপি)।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র রফিকুল আলম বলেন, সাম্প্রতিক ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও খুনের বিষয় নিয়ে আমরা সবসময়ই কাজ করি। সবসময় চেষ্টা থাকে এই অপরাধগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার। এর মধ্যে আমরা ছিনতাই নিয়ে বেশি কাজ করছি। ছিনতাইয়ের ঘটনা যাতে আরও কমে যায় সে বিষয়ে দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।