জেলাজুড়ে নির্বাচনী আমেজ, উচ্ছ্বসিত বিএনপি নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার পর নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে জেলাজুড়ে। সোমবার কেন্দ্রীয়ভাবে রাজশাহীর ছয়টি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর থেকে উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় করেন মনোনয়ন পাওয়া নেতাদের বাসভবন এবং অফিসে।
তবে বিএনপির হাইকমান্ড বলছে, এটা সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা। আগামীতে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এখন পর্যন্ত প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি এনসিপি। তবে বিভিন্ন দল রাজশাহী সদর আসনে প্রার্থী দিলেও অন্য আসনগুলো এখনও প্রার্থী দিতে পারেনি।
বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা জানান, সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তারা ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে চান। এজন্য তারা থাকতে চাচ্ছেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে রাজশাহী ছয়টি আসনই তারা উপহার দিতে চান।
এদিকে জামায়াতে ইসলামও নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় আশাবাদী। তারাও রাজশাহী ছয়টি আসন জিততে চাচ্ছেন। যদিও এর আগে ১৯৮৬ সালে রাজশাহী-১ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন দলটির নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এরপর থেকে রাজশাহীতে আর জিততে পারেনি জামায়াতে ইসলামী।
নিবন্ধন পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এনসিপি রাজশাহীর ছয়টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি। রাজশাহী-২ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ধরা হচ্ছে মহানগর আহ্বায়ক মোবাশে^র আলী। যদিও তিনি বলছেন, যেকোন প্রভাবশালী, হেভিওয়েট, ক্যাপাবল রাজনৈতিক ব্যক্তিকে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। আমিও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি এই আসন থেকে।
এছাড়াও এবি পার্টি, এলডিপি রাজশাহী সদর আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এছাড়াও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জামায়াতের নেতারা। সোমবার রাতে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পরই নির্বাচনী আমেজে মেতেছেন রাজশাহীর ছয়টি আসনের বিএনপি নেতাকর্মীরা। এসময় তারা প্রার্থীরা শুভেচ্ছা বিনিময় ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট করছেন।
রাজশাহী-২ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর নাম ঘোষণার পরে তার বাসায় শুভেচ্ছা জানাতে আসেন দলীয় নেতাকর্মী ও অনুসারীরা। নেতাকর্মীরা বলছেন, রাজশাহীবাসীর আশা আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। মিজানুর রহমান মিনুকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করবে। ব্র্যান্ড হিসেবে বিএনপির রাজশাহীর ব্র্যান্ড মিজানুর রহমান মিনু।
ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করতে ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ করে যাওয়ার কথা বলছেন মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষা করা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে সুসংগঠিত করা, বিএনপি পরিবারের সবাই আমরা ভাই। আমরা সবাই একসঙ্গে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত। বিএনপির সকল নেতাকর্মীকে নিয়ে এক কাতারে নির্বাচন করবো।
এদিকে পবা ও মোহনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৩ আসনে অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনের নাম ঘোষণার পর পরই আনন্দে ফেটে পড়েন দলীয় নেতাকর্মীরা। অ্যাড. শফিকুল ইসলাম মিলন বলেন, দল তার প্রতি যে আস্থা রেখেছে এবার এই আসন থেকে ধানের শীষকে বিজয়ী করে সেই প্রতিদান দেবার পালা।
তিনি বলেন, কখনও বিনা ভোটে, কখনও দিনের ভোট রাতে, কখনও আমি ড্যামি দিয়ে নির্বাচন করেছিল স্বৈরাচারী সরকার। সেই সমস্ত অপকর্মের কারণে তারা আজকে দেশ ছাড়া। অবশ্যই প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হোক, এটাই আমরা চাই। সেজন্য যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা সবাই আশাবাদী। আমিও শতভাগ আশাবাদী।
রাজশাহী-৪ আসনে প্রথমবারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া। তিনি বলেন, বিএনপি বৃহৎ দল। যোগ্য প্রার্থীর অভাব নেই। যারা মনোনয়ন চেয়েছিলেন তারা সবাই যোগ্য। মনোনয়ন তো একজনই পাবেন। সবাইকে নিয়ে আমাদের স্বপ্নের অত্যাধুনিক বাগমারা গড়তে হবে।
ডিএম জিয়া, মনোনয়নকে কেন্দ্র করে কোন প্রকার মিছিল, মিটিং, মিষ্টি বিতরণ থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বরেন্দ্রভূমির অন্তর্গত এ আসনে এবার প্রথমবার প্রার্থী হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা শরীফ উদ্দীন। তিনি প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ছোট ভাই এবং বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত সদর আসন। এই আসন থেকে এবারও মনোনয়ন পেয়েছেন মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তিন বারের সাবেক মেয়র। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সিটি করপোরেশনের উপকণ্ঠে গঠিত রাজশাহী-৩ আসন। এই আসনে এবারও প্রার্থী হয়েছেন অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহসম্পাদক এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি একই আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
বাগমারা উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৪ আসনে এবার প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া। তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক। এর আগে তিনি বাগমারা উপজেলা পরিষদ ও আউচপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উঠে আসা এই নেতা ২০১৮ সালেও বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন।
রাজশাহী-৫ আসনে জেলার পূর্বাঞ্চলের এই আসনে এবারও মনোনয়ন পেয়েছেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এর আগে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তিনবার মনোনয়ন পেলেও দুবার নির্বাচন করেছেন। তিনি পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
পদ্মাপাড়ের দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৬ এ আসনে এবারও দলের মনোনয়ন পেয়েছেন আবু সাঈদ চাঁদ। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। ২০১৮ সালেও তিনি একই আসনে দলের প্রার্থী ছিলেন। তিনি চারঘাট উপজেলা পরিষদ ও শলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।