হোজা নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে আগামী ৭ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে উত্তর দিতে হবে : বাপা

দুর্গাপুর প্রতিনিধি:
একদিকে দখল অন্যদিকে ময়লা স্তূপের কারণে হোজা নদী প্রায় মৃত অবস্থায়। বিশেষ করে দুর্গাপুর বাজার ব্রিজ সংলগ্ন একেবারেই খারাপ অবস্থা। নদীটি বর্তমানে আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এমনকি অবৈধভাবে দখল করে বাড়িঘর ও দোকানপাট তৈরি করেছে অনেকে।
এর ফলে নদীর অস্তিত্ব বিপন্ন হচ্ছে, পানি বিষাক্ত হয়ে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রতিবাদে ৪ নভেম্বর (মঙ্গলবার ) বেলা ১১ টার দিকে উপজেলা (বাপা)র আয়োজসে দুর্গাপুর বাজার ব্রিজের উপরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় মানববন্ধনে বাংলাদেশ পরিবেশবাদী আন্দোলন (বাপা)র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জামাত খান বলেন, হোজা নদীটি দখল শুধু সাধারণ মানুষ করেনি, করেছে মৎস্য ভবন, সড়ক বিভাগ, পৌরসভা। আমাদের সম্পদ আমরা যদি চুরি করি, দখল করি, তাহলে এর বিচারক কে হবে? বিচার কে করবে?
আমাদের প্রাণের দাবি হোজা নদী দখলমুক্ত করতে হবে। নদীতে আবারও ফিরবে নাব্যতা, চলবে নৌকা, মাছ ধরবেন জেলেরা, নদীর পানি থেকে কৃষি কাজ সম্পন্ন করবেন কৃষকেরা। আমাদের বাচ্চারা নদীতে সাঁতার কাটবে, ভালো থাকবে শরীর- ভালো থাকবে মন। এই পৌরসভার আইওয়াশ করার জন্য শুধু তিন কিলোমিটার সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করলাম। আগামী ৭ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উত্তর দিতে হবে কিভাবে হোজা নদীটি দখলমুক্ত করবে, পূর্ণ খনন করবে। আর যদি না হয় জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘেরাও করা হবে।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় দুর্গাপুর উপজেলা বাপার সভাপতি মো. সোহার মিনুল হক রেন্টুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, বাপার রাজশাহী জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) মাহমুদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, মোসা. সেলিনা বেগম, সহ সভাপতি সহকারী অধ্যাপক বাংলা বিভাগ মো. জুয়েল কিবরিয়া, রাজশাহী গ্রীন ভয়েসের সভাপতি,মোসা. রাবেয়া খাতুন, নির্বাহী সদস্য, মোসা. রাশেদা পারভীন, কোষাধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জনসাধারণ মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও কর্মসূচি শেষে , রাজশাহী জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হোজা নদী দখল ও দূষণ প্রতিরোধ সহ নদীর নাব্যতা আনয়নে প্রয়োজনীয় প্রতিকার চেয়ে পাউবো, জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর বারবার স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।