শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

স্মার্টফোন পেলেন রাজশাহীর ৫০ জন প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ

WP Import ০৪ নভেম্বর ২০২৫ ০৭:৩১ অপরাহ্ন
WP Import ০৪ নভেম্বর ২০২৫ ০৭:৩১ অপরাহ্ন
স্মার্টফোন পেলেন রাজশাহীর ৫০ জন প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ
স্মার্টফোন পেলেন রাজশাহীর ৫০ জন প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীর ৫০ জন প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষকে একটি করে স্মার্টফোন দেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা বৃদ্ধি, সরকারি সেবায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই মোবাইল ফোনগুলো দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকালে জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সে আয়োজিত ‘অ্যাক্সেসিবল ডিজিটাল পরিষেবা ও পঠন উপকরণের প্রচার কর্মশালা’ শেষে তাদের মোবাইল ফোন দেওয়া হয়। কর্মশালার আয়োজন করে সেন্টার ফর ডিজএ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি) ও অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)।

ডিজিটাল সাক্ষরতার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন প্রকল্পের অধীনে আয়োজিত এ কর্মশালা শেষে ১০টি স্ব-সহায়ক দলের প্রতিনিধিদের হাতে ৫০টি সিম্ফনি ইনোভা-৩০ মডেলের স্মার্টফোন তুলে দেওয়া হয়। সিবিএম গ্লোবাল ডিজঅ্যাবিলিটি ইনক্লুশন ও সিবিএম সুইজারল্যান্ডের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সিডিডি। সহযোগী সংস্থা হিসেবে আছে সমতা নারী কল্যাণ সংস্থা। চলতি বছরের এপ্রিলে শুরু হওয়া এ প্রকল্প শেষ হবে ২০২৮ সালের মার্চে।

এ প্রকল্পের আওতায় কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা স্মার্টফোন পেয়ে খুশি হন। তবে তারা কর্মশালায় বলেছেন, সরকারি ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপগুলোতে এখনো অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্ক্রিন রিডার, ভয়েস কমান্ড সুবিধা বাড়ানো, সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ভিডিও সংযোজন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহায়ক কর্মী নিয়োগের পরামর্শ দেন তারা। বাঘা উপজেলা থেকে আসা শারীরিক প্রতিবন্ধী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,“আগে আমি সরকারি অনেক সেবা সম্পর্কে জানতাম না, মোবাইল ব্যবহারও ভালোভাবে পারতাম না। আজকের প্রশিক্ষণে শিখেছি কীভাবে অনলাইনে সেবা নিতে হয়, তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়। স্মার্টফোন হাতে পেয়ে এখন আমি নিজেই নিজের কাজ করতে পারব। এই সুযোগ আমাদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার। তিনি বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণ কেবল একটি দিনের আয়োজন নয়, এটি একটি পরিবর্তনের সূচনা। তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে আমরা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছি। প্রযুক্তি ব্যবহারে তারা স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে এগিয়ে যাবে। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি সমাজ, যেখানে কোনো প্রতিবন্ধকতা কারও সম্ভাবনাকে থামিয়ে দিতে পারবে না।’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এটুআই-এর যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক রশিদুল মান্নাফ কবির। তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল সেবা শুধু প্রযুক্তি নয়, এটি মানবিকতারও বিষয়। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য প্রযুক্তি যেন সহায়ক হয়, প্রতিবন্ধক নয়-সে বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছি।’

বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. বায়েজীদ হোসেন ওয়ারেছী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমতা নারী কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন,“প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে আমরা তাদের জীবনের মান উন্নত করতে চাই। তাদেরকে দক্ষ ও আত্মনির্ভর করে তুললেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।”

সিডিডির সহকারী পরিচালক আনিকা রহমান লিপির সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এটুআই-এর পরামর্শক ভাস্কর ভট্টাচার্য। তিনি বলেন,“ডিজিটাল সেবায় প্রবেশগম্যতা মানে শুধু ওয়েবসাইট বা অ্যাপ সহজ করা নয়; বরং তথ্য ও যোগাযোগের প্রতিটি ধাপে ব্যবহারকারীর সক্ষমতা অনুযায়ী সুযোগ তৈরি করা।”