শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ডিজিটাল শিক্ষার স্বপ্ন থেমে আছে কাগজে কলমে, প্রযুক্তি আসেনি শ্রেণিকক্ষে

WP Import ০৩ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৪৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ০৩ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৪৮ অপরাহ্ন
ডিজিটাল শিক্ষার স্বপ্ন থেমে আছে কাগজে কলমে, প্রযুক্তি আসেনি শ্রেণিকক্ষে
ডিজিটাল শিক্ষার স্বপ্ন থেমে আছে কাগজে কলমে, প্রযুক্তি আসেনি শ্রেণিকক্ষে

চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি:


দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল শিক্ষা চালুর অংশ হিসেবে রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলার প্রায় ২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেই উদ্যোগ আজও কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ। মাঠ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল শিক্ষার বাস্তব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। শিক্ষার্থীদের তথ্য ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দক্ষতা, সক্ষমতা বাড়ানো ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করা এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলেও বাস্তবে তা এখন গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। নি¤œমানের উপকরন সরবরাহে এসব ডিজিটাল ল্যাব মুখ থুবরে পড়েছে।

সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস, কম্পিউটার প্রশিক্ষন এবং অনলাইনভিত্তিক শিক্ষন পদ্ধতি চালু থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে বেশির ভাগ স্কুলেই নেই পর্যাপ্ত কম্পিউটার, প্রজেক্টর বা ইন্টারনেট সংযোগ। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি বা ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষিত নন। ফলে শিক্ষার্থীরা এখনও বই নির্ভর শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

উপজেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল ল্যাব এ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ল্যাবগুলোর করুন অবস্থা। সরদহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ইউসুফপুর কৃষি উচ্চ বিদ্যালয় সরকার প্রদত্ত ল্যাপটপগুলো দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। ল্যাপটপগুলো মনিটর ও ব্যাটারির কারনে অচল। ভালো ল্যাপটপগুলো ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করছেন কর্তৃপক্ষ। এসময় একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন ল্যাপটপগুলো পুরোনো সংস্করনের এবং অধিকাংশ ল্যাপটপের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া ডিজিটাল ক্লাশরুম চালুর জন্য প্রশিক্ষন ও রক্ষানোবেক্ষনের নিয়মিত কোন ব্যবস্থা নেই। চারঘাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় গিয়ে দেখা যায় এখানে স্কুল অফ ফিউচার এর জন্য ২০২২ সালে উপকরন পেয়েছে তা কার্যত বন্ধ। ঔই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন স্কুল অফ ফিউচার এর সরঞ্জামাদি পেয়েছি তবে টেকনেশিয়ান এর জন্য বার বার উপজেলা আইসিটি অধিদপ্তরে আবেদন করে সাড়া মিলেনি তাই মেশিনগুলো পড়ে আছে।

ঐসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন নিয়মিত তথ্য প্রযুক্তি ক্লাশগুলো প্রজেক্টর এর মাধ্যমে নেয়া হয়। তবে ল্যাব এ গিয়ে ব্যবহারিক ক্লাশ নেয়া হয় না। সরদহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী সেতু আক্তার, একই ক্লাশের তিশা আফরোজ, ইউসুফপুর কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী শিমলা খাতুন, ৮ম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া ইয়াসমীনসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা বলেন বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ল্যাব আছে তবে আমরা কোন দিন ল্যাপ টপ ছুয়ে দেখিনি। ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে ইউসুফপুর কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক মেহেদী হাসান বলেন কম্পিউটার ব্যবহারিক শিক্ষা দেয়ার জন্য একজন ল্যাব সহকারী প্রয়োজন। আমি তথ্য প্রযুক্তির শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রজেক্টর এর মাধ্যমে বই নির্ভর তাত্ত্বিক শিক্ষা দিয়ে থাকি। ল্যাব সহকারী না থাকায় শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয় শিক্ষাবিদরা বলেন ডিজিটাল শিক্ষার সাফল্য শুধুমাত্র নীতিমালা ও প্রতিবেদনে নই বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখতে চাই। তারা মনে করেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত প্রশিক্ষন, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম সরবরাহ, এবং ইন্টারনেট অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়া ডিজিটাল শিক্ষা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে একাধিক অভিভাবকগন বলেন উপজেলা মাধ্যমিক অধিদপ্তর ও আইসিটি অধিদপ্তর মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ালে চারঘাট উপজেলার শিক্ষার্থীরা সত্যিকারের ডিজিটাল শিক্ষার সুবিধা পাবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুসহাক আলী জানান, ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে একাধিক নির্দেশনা ও প্রকল্প নেয় হলেও মাঠ পর্যায়ে তদারকি ও কারিগরি সহায়তার অভাবে উদ্যোগগুলো সফলতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগন উপকরনের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানান।
উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা (সহকারী প্রোগ্রামার) মাহফুজ আরেফিন মুঠোফনে বলেন ল্যাব পরিদর্শনের প্রতিবেদন উর্ধ্বোতন কর্মকর্তাদের নিকট পাঠিয়েছি। শর্ত অনুযায়ী ল্যাব এ ব্যবহৃত ল্যাপটপগুলোর রক্ষানাবেক্ষন নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহন করবে। তবে সত্যতা স্বীকার করে টেকনেশিয়ান না পাওয়ার কারনে প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হয়েছে স্কুল অফ ফিউচার এ অন্তভুক্ত চারঘাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় বলে তিনি জানান।