স্কুল পর্যায়ে দেওয়া হয়েছে ৭০ শতাংশ টাইফয়েড টিকা, সারাদেশে এগিয়ে রাজশাহী বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিভাগে স্কুল পর্যায়ে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী টাইফয়েডের টিকা গ্রহণ করেছে। এই ক্যাম্পেইনে সারা দেশের মধ্যে রাজশাহী বিভাগ সবার চাইতে এগিয়ে আছে। বিভাগে আট জেলা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। স্কুল পর্যায় শেষে এখন কমিউনিটিতে শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দেওয়া তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে পাবনা জেলা। এই জেলায় ৮০ শতাংশ টিকা দেওয়া হয়েছে। ৬ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বগুড়া জেলা। এই জেলায় ৬ লাখ ৬৬ হাজার শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে টিকা। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে ৭০ শতাংশ। জয়পুরহাট জেলাতেও ৭০ শতাংশ টিকা দেওয়া হয়েছে। এই জেলায় ১ লাখ ৫৮ হাজার শিক্ষার্থী টিকা নিয়েছেন। রাজশাহী জেলায় ৬৯ শতাংশ টিকা দেওয়া হয়েছে। ৩ লাখ ৯১ হাজার শিক্ষার্থী টিকা গ্রহণ করেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী টিকা নিয়েছেন। লক্ষ্যমাত্রার ৬৯ শতাংশ পূরণ হয়েছে। নাটোর জেলায় ২ লাখ ৯২ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ শতাংশ। সিরাজগঞ্জ জেলায় ৬৬ শতাংশ টিকা দেওয়া হয়েছে। এই জেলায় ৬ লাখ ৯১ হাজার শিক্ষার্থী টিকা নিয়েছেন। এছাড়াও ৬২ শতাংশ টিকা দেওয়া হয়েছে নওগাঁর শিক্ষার্থীদের। এই জেলা ৪ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে টিকা।
সারাদেশের সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। এ পর্যন্ত ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে টিকা। ১ লাখ ২ হাজার শিক্ষার্থী টিকা গ্রহণ করেছেন। তবে স্বাস্থ্যবিভাগ আশাবাদী কয়েকদিনের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা এগিয়ে যাবে।
এদিকে রোববার (২ নভেম্বর) বিকালে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদের সভাপতিত্বে সম্মেলনকক্ষে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের বিভাগীয় পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার নওগাঁ জেলাসহ যে-সব স্থান টিকাদানে পিছিয়ে আছে তাদেরকে আরও সক্রিয় হতে অনুরোধ করেন এবং রাজশাহী যেন দেশের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারে সেজন্য সকলকে আরও আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।
উল্লেখ্য যে, গত ১ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুদের টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হয়েছে। এখন কমিউনিটি পর্যায়ে টিকা দেওয়া চলছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাদ পড়া শিশুরাও কমিউনিটি থেকে টিকা গ্রহণ করতে পারবে।