শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

রাজশাহীতে ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’র প্রভাব, কৃষি ও কৃষকের ক্ষতির আশঙ্কা

WP Import ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ১১:১৮ অপরাহ্ন
WP Import ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ১১:১৮ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’র প্রভাব, কৃষি ও কৃষকের ক্ষতির আশঙ্কা
রাজশাহীতে ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’র প্রভাব, কৃষি ও কৃষকের ক্ষতির আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক:


ঘূর্ণিঝড় মোন্থার প্রভাবে রাজশাহীতে নেমেছে স্বস্তির বৃষ্টি। বুধবার সন্ধ্যায় বৃষ্টি শুরু হলেও কয়েক দফায় বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত হয়েছে। এতে জমে থাকা ধুলাবালু ধুয়ে প্রকৃতিতে ফিরেছে সজীবতা, কমেছে বায়ুদূষণও। তবে অসময়ের বৃষ্টিতে কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকেরা। এতে তারা ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
রাজশাহীতে গেল ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছে আবহাওয়া অফিস। ঘূর্ণিঝড় মোন্থার প্রভাবে আরও দুয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

আবহাওয়া অধিদঢতর জানায়, রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশের দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে হালকা বৃষ্টি ঝরে। যদিও সেই বৃষ্টি মাপার মতো ছিলনা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিনভর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। ফলে খুব বেশি দেখা মেলেনি সূর্যের। এছাড়া বিকেলের দিকে পশ্চিম আকাশ থেকে পূর্বে ধেয়ে আসে মেঘ। এরপর সন্ধ্যার নামে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। এসময় ১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে আবহাওয়া অফিস।
সবশেষ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ভোর রাত থেকে রাজশাহীতে গুড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়। থেমে থেমে চলে সকাল ৪ টা পর্যন্ত। এসময় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে আবহাওয়া অফিস। জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ বিষয়ে রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ রহিদুল ইসলাম বলেন, রাজশাহীতে ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টিপাতের সম্ভবাবনা রয়েছে।
এদিকে এই বৃষ্টি পরিবেশের জন্য আশীর্বাদ হলেও কৃষির জন্য সুখকর নয় বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। কৃষক মাহবুব হোসেন জানান, তিনি রসুন বপনের জমি তৈরি করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে গিয়ে দেখেন খেতে পানি জমে গেছে। এখন কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।

দুর্গাপুরের কৃষক রায়হান আলী বলেন, রাতের বৃষ্টিতে তার জমির ফুলকপি খেতে পানি জমেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতি হবে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, কার্তিকের এই বৃষ্টি কৃষির জন্য লাভের চেয়ে ক্ষতির কারণ হতে পারে। এখন আমন ধান পাকার মৌসুম, অনেক কৃষক ধান কাটা শুরু করেছেন। আবার রবিশস্যের জন্য জমি প্রস্তুতের কাজও চলছিল। বৃষ্টির কারণে এসব কাজ অন্তত দুই-তিন দিন পিছিয়ে যাবে। তবে এখনই বৃষ্টি থেমে দ্রুত রোদ উঠলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।