বাঘায় পদ্মার চরে দাদাকে খাবার দিতে গিয়ে নবম শ্রেণির ছাত্র গুলিবিদ্ধ
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহী বাঘায় পদ্মার চরে দাদাকে খাবার দিতে গিয়ে নবম শ্রেণির ছাত্র শাওন হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তের পদ্মার চরের নীচ খানপুরের হবির চরের দক্ষিণে চৌদ্দ হাজারি মাঠ এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। শাওন হোসেন খানপুরের সুমন হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র।
জানা গেছে, সোমবার সকালে চরে জেগে উঠা খড় কাটতে যান খানপুরের তজ্জুল মন্ডলের ছেলে রুহুল আমিন (৫৫), মিনহাজ মন্ডলের ছেলে আমান মন্ডল (৩৬), আশরফ মন্ডলের ছেলে রাবিক হোসেন (১৮), মন্ডলের ছেলে মুনতাজ মন্ডল (৩২), শুকুর আলীর ছেলে নাজমুল হোসেন (২৬)। রুহুল আমিনের নাতী শাওন হোসেন খাবার নিয়ে যায়। এ সময় পদ্মার চরে কাকন বাহিনী এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে তারা গুলিবিদ্ধ হন।
আহত অবস্থায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হলে আমান মন্ডল মারা যান। পরে নাজমুল হোসেনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন মুনতাজ মন্ডল, রাকিব হোসেন, শাওন হোসেন, রুহুল আমিন। নিহতদের ময়না তদন্ত শেষে সন্ধ্যায় নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
নিহত নাজমুল হোসেনের স্ত্রী শারমিন আক্তার। তাদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এরমধ্যে বড় মেয়ে জান্নাতি খাতুন (৩) ও জামেলে খাতুন (২)। নাজমুল এলাকায় ট্রলি চালকের কাজ করতেন। কোন কোন সময়ে মাঠে শ্রমিকের কাজ করতেন। এছাড়া আমান মন্ডল কিছুদিন আগে বিয়ে করলেও পারিবাকি কলহের কারনে স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে।
রুহুল আমিন বলেন, কাকন বাহিনীর ৮-১০ জন প্টিড বোর্ডে এসে অতর্কীতভাবে এলোপাতাড়িভাবে গুলি ছোড়ে। এতে আমি ও আমার নাতী শাওন আহত হয়েছি। প্রায় ঘণ্টা খানেক এলাকায় গুলি ছোড়ে। শব্দে আমি খড়ের মধ্যে প্রায় ঘন্টা খানেক লুড়িয়ে ছিলাম। তাদের ছোড়া একটি গুলি আমার কপালে ও আমার নাতী শাওনের ডান হাতের কুনই এর উপরে লাগে। তারা চলে যাওয়ার পর এলাকার লোকজন আমাদের উদ্ধার করে। আমরা অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছি।
বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্দ) সুপ্রভাত মন্ডল বলেন, মঙ্গলবার রাজশাহী ও কুষ্টিয়ার এসপি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আইনীভাবে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।