শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

পদ্মার চরে কাকন বাহিনীর গুলিতে নিহত ২

WP Import ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৪২ অপরাহ্ন
WP Import ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৪২ অপরাহ্ন
পদ্মার চরে কাকন বাহিনীর গুলিতে নিহত ২
পদ্মার চরে কাকন বাহিনীর গুলিতে নিহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক ও বাঘা প্রতিনিধি:


রাজশাহী বাঘায় পদ্মার চর দখল নিতে গুলি চালিয়েছে কাকন বাহিনীর সদস্যরা। এতে দু’জন নিহত এবং অপর চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে যারা আহত ও নিহত হয়েছেন তারা ম-ল বাহিনীর সদস্য বলে দাবি করা হচ্ছে। তাদের পরিবারের দাবি- তারা কৃষক। চরে খড় কাটতে গিয়ে তাদের উপরে গুলি চালানো হয়েছে।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পদ্মার চরের নীচখানপুর চরে এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। তবে এর কিছু দূরে হবিরচর অবস্থিত। এই চর দখল নিয়ে গুলি চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতরা হলেন- খানপুর চরের মিনহাজ মন্ডলের ছেলে আমান মন্ডল (৩৬) ও নাজমুল হোসেন (৩৩)। এর মধ্যে আমান মন্ডল ঘটনাস্থলে মারা যান। আর নাজমুল হোসেনকে রামেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। এছাড়াও গুরুতর আহত অবস্থায় রামেক হাসপাতালে ভর্তি আছে মুন্তাজ মন্ডল (৩২)ও রাকিব হোসেন (১৮)। এদের সবার বাড়ি খানপুর চরে।

নিহত আমান মন্ডলের বাবা মিনহাজ মন্ডল বলেন, চরে পতিত জমিতে খড় কাটতে যায় আমার ছেলেসহ কয়েকজন। পদ্মার চরে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী কাকন বাহিনীর লোকজন এসে অতর্কিত গুলি ছুড়েছে। আমার ছেলেসহ আরও একজন নিহত হয়েছেন। মরদেহ রামেক হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ময়নাতদন্ত করা হবে। এ ঘটনায় মামলা করবো।

খানপুর গ্রামের বেলাল হোসেন বলেন, খানপুর চরের কয়েকজন খড় কাটছিলেন। এসময় কাকন বাহিনীর লোকজন প্রভাব বিস্তার করে খড় কাটা জমির দখল নিতে এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়ে। এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনা শোনার পর আমরা সবাই গেলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তারা গুলি চালিয়ে চলে গেছে। এরমধ্যে একজনকে আমরা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। বাকিদের অবস্থা খারাপ হওয়ায় রামেক হাসপাতালে পাঠিয়েছে উপজেলা থেকে।

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নিহার চন্দ্র মন্ডল বলেন, নিহত এবং আহতদের শরীরে অসংখ্যা গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাদের অবস্থাও সংকাপন্ন। তাদের সবাইকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শঙ্কর কুমার বিশ^াস বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনজন হাসপাতালে এসেছেন। তার মধ্যে একজন মারা গেছেন। দু’জনকে একটি ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের অবস্থা গুরুতর।

তবে এই বিষয়ে তিন জেলার তিন থানার কোন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেননি। বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আছাদুজ্জামান বলেন, ‘এই ঘটনা দৌলতপুর চরে। বাঘা থানা এলাকায় নয়।’
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি যতটুকু নিশ্চিত হয়েছি এটা রাজশাহী বাঘা ও নাটোরের লালপুর থানা এলাকায়। এরকম ঘটনা আমার থানার আন্ডারে ঘটেনি।’
নাটোরের লালপুর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুজ্জামান বলেন, এই ঘটনা লালপুর থানা এলাকার না। লালপুর থেকে দুই-তিন কিলোমিটার দূরে ঘটনাস্থল। এটা কুষ্টিয়া বা রাজশাহীর বাঘা থানা এলাকা হতে পারে।

উল্লেখ্য, পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ থেকে রাজশাহীর চারঘাট পর্যন্ত পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কাকন বাহিনীর সাম্রাজ্য। পদ্মা নদীতে বৈধ ও অবৈধ সব বালু ব্যবসায়ীদের নিয়মিত চাঁদা দিতে হয় কাকন বাহিনীকে। এছাড়া নদীতে জেলে ও কৃষকদের কাছেও মূর্তিমান আতঙ্ক এই কাকন বাহিনী। কাকন বাহিনী তার ক্ষমতা প্রদর্শন করতে পদ্মায় একের পর এক অস্ত্রের মহড়া চালিয়ে আসছে। কাকন বাহিনীর সদস্যরা মাঝে মধ্যে পদ্মা নদীতে ফিল্মি স্টাইলে অস্ত্রের মহড়া দেয়।