চাকরি ছেড়ে মৌচাষে জীবিকা গড়লেন চারঘাটের আমিনুল

চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের আমিনুল ইসলাম একজন সফল মৌচাষি। কোভিড-১৯ চলাকালীন সময়ে চাকুরি চলে যাওয়ার পর ঝুঁেকছেন মৌচাষে। এখন মৌ চাষই তার প্রধান জীবিকার উৎস।
আমিনুল ইসলাম একসময় নারায়নগঞ্জ এর আদমজী ইপিজেড এ একটি গার্মেন্টস এর ওয়্যারহাউজে চাকরি করতেন। কিন্তু কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার পর ঐ গামেন্টস এ তিনি চাকরি হারান। সে সময় তার সংসারের ব্যয় মেটাতে কষ্ট হচ্ছিল। জীবনে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তিনি নাটোর জেলার বাগাতীপাড়ার তমালতলার একটি মধু তৈরির কারখানায় কাজ নেন। সেখান থেকে জীবনে পরিবর্তন আনার লক্ষে শুরু হয় বিকল্প পেশা হিসেবে মৌ চাষ। আর এই মৌ চাষই এখন তার জীবিকার মূল ভরসা।
মৌ চাষী আমিনুল বলেন, শুরুর দিনগুলি খুব সুখকর ছিল না। নিজের জমানো টাকা ও আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে ধার নিয়ে ২০২৪ সালের ১৩টি মৌ বক্স দিয়ে শুরু করেন মৌচাষ। আবওহাওয়ার প্রভাব, রোগ আর কখনও কখনও মধুর বাজার উঠানামার কারনে কঠিন সময় পাড়ি দিতে হয় তাকে। তবে পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের কারনে ধীরে ধীরে সফলতা পেতে শুরু করেন।
বর্তমানে তার কাছে প্রায় ৪৫টি মৌ বক্স রয়েছে। মৌ মৌসুম যেমন শরিষা, লিচু, কালিজিরা উৎপাদনের সময় তিনি প্রচুর পরিমানে মধু সংগ্রহ করেন। প্রতি বক্স থেকে ৫-৬কেজি মধু সংগ্রহ করে থাকেন তিনি। এই মধু হতে সময় লাগে ৫-৬ দিন। এই মধু সংগ্রহ করে তিনি স্থানীয় পাইকারদের কাছে বিক্রয় করেন। প্রতি কেজি শরিষা মধু প্রায় ৮ হাজার টাকা, লিচু মধু ১০ হাজার টাকা এবং কালো জিরা মধু ১৭ হাজার টাকায় বিক্রয় করেন বলে জানান তিনি।
আমিনুল বলেন চাকরি চলে যাওয়ার পর এখন মৌ চাষ করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। ইচ্ছে ছিল প্রকৃতির সাথে কাজ করার আর এটা এখন আমার জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন প্রতি মৌসুম ফসল ক্ষেত্রে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেন তিনি। সরকারী সাহায্য পেলে মৌ বক্স বৃদ্ধি করে আরও আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন হাসান বলেন, আমিনুলের মতো অনেক যুবক এখন মৌ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এটি একটি পরিবেশ বান্ধব ও লাভজনক ব্যবসা। সরকার মৌ চাষ সম্প্রসারনে প্রশিক্ষন ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। আমিনুলের এই উদ্যেগ শুধু তার পরিবর্তন আনেনি বরং বেকার যুবকদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। এই উপজেলা মৌ চাষের মাধ্যমে একটি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।