রাবি নাট্যকলা বিভাগ: দাবি মানার পরেও ২ শিক্ষার্থীর অনশন অব্যাহত

রাবি প্রতিবেদক:
দাবি অনুযায়ী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করার পরেও দুই শিক্ষার্থী আমরণ অনশন অব্যাহত রেখেছেন। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিতকরণ ও চলমান অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেল তিনটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তাঁরা এই কর্মসূচি শুরু করেছিলেন।
রোববার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। এর আগে তাঁরা দুই দিন ধরে ৪ ও ৮ ঘন্টা করে প্রতীকী অনশন পালন করেছিলেন।
দাবি অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করার পরেও অনশন অব্যাহত রাখার কারণ বিষয়ে জানতে চাইলে অনশনকারী সাদেক রহমান বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া কেমন হবে সেবিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি। তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতে হবে। এবিষয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। তদন্ত রিপোর্ট না দেওয়া পর্যন্ত নাট্যকলা বিভাগের নিয়োগ বন্ধ রাখতে হবে।
আমরণ অনশনে থাকা দুই শিক্ষার্থী হলেন- নাট্যকলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদেক রহমান এবং দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদুল ইসলাম ভুইয়া রাতুল।
অনশনকারী দুই শিক্ষার্থী কিছুটা অসুস্থ হয়ে গেলে তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন নাট্যকলা বিভাগের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা।
তাঁরা ‘নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনশন কর্মসূচি’, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই হবে একসাথে’, ‘জবাবদিহিতা নিশ্চিত কর’, ‘সিন্ডিকেটের কালো হাত ভেঙে দাও’ লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানান।
এর আগে নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাহাত ইসলাম হৃদয় নামে এক প্রার্থী উপাচার্য, রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে লিখিত অভিযোগ দেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশও পাঠান।
নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মীর মেহবুব আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীবের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রোববার (২৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত যে সব সংবাদ ও ফোনালাপের অডিও প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর এম. আসাদুল হককে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিকে দ্রুততম সময়ে প্রতিবেদন ও সুপারিশ প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।#