বিভিন্ন স্থানে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা; বেহাল দশা রাবি’র শেরে বাংলা হলের

রাবি প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে পুরোনো আবাসিক হলগুলোর মধ্যে শেরে বাংলা হল অন্যতম। হলটি পুরোনো হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাঁটল। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা, ছাদ বেয়ে পড়ে পানি। ঝুঁকি নিয়েই হলটিতে থাকছেন কয়েকশত শিক্ষার্থী। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) সরেজমিনে হলটি ঘুরে ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে এমন চিত্র উঠে এসেছে। এসময় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে হলের বেহাল দশার বর্ণনা দেন এই প্রতিবেদকের কাছে।
আবাসিক শিক্ষার্থীরা বলেন, হলের অবস্থা সম্পর্কে একাধিকবার হল প্রশাসনকে তারা জানিয়েছেন। হলটি বসবাসের অনুপযুক্ত হওয়ার কারণে এবং নিরাপত্তাজনিত কারনে নবনির্মিত ছেলেদের নতুন হলে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, হলটিতে বিভিন্ন ব্লকের দেয়াল, ছাদে ফাঁটল ধরেছে। পলেস্তারা খসে পড়ার ক্ষত পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে ছাদে। ওয়াশরুম ও বেসিনের অবস্থাও শোচনীয়। পিলারগুলোতেও ফাটল দেখা যাচ্ছে। ওয়াশরুমের স্যাঁতসেতে পরিবেশ ও নোংরা চিত্রও স্পষ্ট।
হল প্রশাসন জানিয়েছে, হলের অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে তারা অবগত। সমস্যগুলো একদিনে হঠাৎ করে শুরু হয়নি। সমস্যাগুলো অনেক আগে থেকেই ছিলো। তবে, বিষয়গুলো তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। টেন্ডার পাশ হয়ে কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. ফাইন হোসেন বলেন, ‘আমরা কি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছি, না-কি আতঙ্কে বাঁচতে? শেরে বাংলা হলের ছাদ থেকে প্রতিনিয়ত প্লাস্টার ও ইটের টুকরো ভেঙে পড়ছে। দিনের পর দিন আমরা শিক্ষার্থীরা ভয় নিয়ে থাকি কখন কার মাথায় পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যাবে। প্রশাসনের কবে চোখ খুলবে? কেউ মরলে তখন কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে? এছাড়াও, ওয়াশরুমের অসহনীয় নোংরা পরিবেশ, খাবারের মান অত্যন্ত খারাপ, বেসিনে পানির সংকট নিয়মিত, সেই পানিও হলুদ ও দূষিত। এই হলে আমরা থাকি, পড়াশোনা করি, স্বপ্ন দেখি দেশের সেবায় নিয়োজিত হওয়ার। কিন্তু এই পরিবেশে পড়ালেখায় কীভাবে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব?’

শেরে বাংলা হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) রানা হোসাইন বলেন, ‘হলের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের সবার দাবি, এই হলে আমরা আর থাকতে চাই না। যেখানে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকে, সেখানে আমরা থাকবো না। আমরা জেনেছি, পাঁচ বছর আগেই এই হলটি বাসযোগ্যতার সময়সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। একটি অবকাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর যদি দূর্বল থাকে, বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে, সেখানে উপরীকাঠামোতে বারবার মেরামত করেও লাভ হয় না। আমাদের হলেও একই চিত্র। প্রশাসনকে আমরা জানিয়েছি, আমরা অন্য হলে স্থানান্তর হতে চাই। হল প্রশাসন আমাদের কোথায় স্থানান্তর করবে সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমরা এই হলে আর থাকতে চাই না’।
কেন্দ্রীয় সংসদের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হল ও মন্নুজান হলের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত করুণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এই দুই হলের ভবন এখন আর সংষ্কারের উপযুক্ত নয়। আমাদের মতে, এই ভবনগুলো ভেঙে সম্পুর্ণ নতুন ভবন নির্মাণই একমাত্র বাস্তবসম্মত সমাধান। আমরা প্রথম অধিবেশনে বিষয়টি দৃঢভাবে উপস্থাপন করবো, নির্মাণার্ধীন নতুন ছেলেদের হলে শের-ই-বাংলা হলের শিক্ষার্থীদের এবং নির্মাণাধীন নতুন মেয়েদের হলে মন্নুজান হলের শিক্ষার্থীদের দ্রুত স্থানান্তরের দাবি জানানো হবে।’
শের-ই-বাংলা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এ ব্যাপারে ভাইস চ্যান্সেলর, চীফ ইঞ্জিনিয়ারসহ আমরা সবাই অবগত আছি। হলের উপরতলাসহ যেসব জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং এর পাশাপাশি অবকাঠামোগত অন্য যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেসব কাজের জন্য টেন্ডার পাশ হয়ে অলরেডি কাজ শুরু হয়ে গেছে। এরই মধ্যে, তিনটি পৃথক পৃথক টীম কাজ শুরু করে দিয়েছে। সমস্যগুলো আসলে একদিনেই হঠাৎ করে শুরু হয়নি। অনেক আগে থেকেই এই সমস্যা। কাজ চলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠিকঠাক হয়ে যাবে আশা করি।’