শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

’বহিরাগত’ চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের

WP Import ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৪৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৪৮ অপরাহ্ন
’বহিরাগত’ চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের
’বহিরাগত’ চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের

রাবি প্রতিবেদক


চলমান আন্দোলনের তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়া এবং অসহযোগিতা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে ‘বহিরাগত’ চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

আন্দোলনকারীরা জানান, বিকাল ৫টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলমান রাখবেন তাঁরা। আর দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য শাটডাউন কর্মসূচি চলবে। অবস্থান কর্মসূচিতে বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন।

তাঁদের তিন দফা দাবি হলো- বৈষম্যমূলক শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধন, ইন্টার্নশিপ ভাতা চালু ও বিসিএস পরীক্ষায় চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানের শিক্ষা ক্যাডার অন্তর্ভুক্ত করা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এনামুল হক বর্তমানে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের চলমান শাটডাউন কর্মসূচির কারণে বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।

আন্দোলনকারীদের অন্যতম একজন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ফারহানা জেবিন লিজা বলেন, তিন দিন থেকে আমরা আমাদের কর্মসূচি পালন করছি। আমাদের তিনটি দাবি ছিলো। এসব দাবির ব্যাপারে আমরা উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছি। কিন্তু এসব বিষয়ে আমাদের চেয়ারম্যান স্যার কোনো রেসপন্স করছেন না। এজন্য আজকে আমরা ওনার পদত্যাগ দাবি করছি।

সুমন মিয়া নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের দাবি ছিলো ২২ তারিখ বিকাল ৪ টার মধ্যে তিন দফা মেনে নিতে হবে। কিন্তু চেয়ারম্যান স্যার নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও আমাদের দাবি মেনে নেন নি এবং আমাদের সাথে কথাও বলেননি।

যেহেতু তিনি আমাদের অসহযোগিতা করেছেন এবং গতকালকে আমরা পিএসসিতে স্মারকলিপি পাঠানোর জন্য একটি স্মারকলিপি তৈরি করে স্বাক্ষর নিতে গেছি তিনি স্বাক্ষরও করেননি এবং আমাদের সাথে দেখাও করেননি। একারণে আমাদের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রফেসর এনামুল হকের অপসারণ চাই। আমাদের নিজ ডিপার্টমেন্ট থেকে চেয়ারম্যান নিয়োগ করতে হবে। এটিই আমাদের মূল দাবি।

তবে, অসহযোগিতার বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেছেন চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর এনামুল হক। তিনি বলেন, আমি তাদের সহযোগিতা করছি। অলরেডি একটা দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তাদের শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে ভাইস চ্যান্সেলরের সাথে কথা হয়েছে। উনি বলেছেন শিক্ষা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি ও পিএসসি’র সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করতে।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, বাকি দুইটি বিষয়ে গতকাল উপাচার্য মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে ভাইস চ্যান্সেলর বলেছেন, সময়মতো প্ল্যানিং কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠাবো যেন বিষয়টি সমাধান হয়। আর ইন্টার্নশিপের ভাতার বিষয়ে আমরা ইউজিসির সাথে কথা বলবো। তাঁরা ইন্টার্নশিপ চলাকালীন প্রত্যেক মাসে ১৬-২০ হাজার টাকা পাবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যদ্বয়ের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে, গত মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) তিন দফা দাবিতে বিভাগে তালা ঝুলিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।