শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

অবৈধ বালু উত্তোলনে মূলহোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে

WP Import ২২ অক্টোবর ২০২৫ ১১:০৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ২২ অক্টোবর ২০২৫ ১১:০৭ অপরাহ্ন

মহাদেবপুরে ট্রাকচালক-সহযোগীর কারাদন্ড জেলে

মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:


নওগাঁয় আত্রাই নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে এক ট্রাকচালক ও তার সহযোগীকে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। জেলার মহাদেবপুর উপজেলার শিবগঞ্জ হাট সংলগ্ন কদমতলী পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে এ দন্ডাদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। তবে মূলহোতারা রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

প্রভাবশালী নদীখেকো চক্রের সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি স্থানীয়দের। দ-প্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলে ট্রাকচালক মতিউল্লাহ (২৮) ও বিজয়পুর গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে চালকের সহযোগী মানিউল (২৫)। গত মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে তাদের নওগাঁ জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহাদেবপুর থানার ওসি শাহীন রেজা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ- চলতি বাংলা সনে মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীর বালুমহাল ইজারা দেয়নি প্রশাসন। এর পরও দীর্ঘদিন থেকে কদমতলী এলাকায় কখনও রাতের আধাঁরে; আবার কখনও প্রকাশ্যে দিবালোকে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে প্রভাবশালী একটি চক্রের সদস্যরা। এর নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের দরিয়াপুর গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে হারুন। ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানের সময় মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে যায় হারুন ও তার সহযোগীরা। তাদের মোটরসাইকেল থানা হেফাজতে রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ে বালু বিক্রি করে চক্রের সদস্যরা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, আত্রাই নদীর কদমতলী নামক স্থানে গত ২০ অক্টোবর সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে নদী থেকে অবৈধভাবে এক্সেভেটরের (খননযন্ত্র) মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে ট্রাকযোগে নিয়ে যাবার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় সেখানে অভিযান চালিয়ে মতিউল্লাহ ও মানিউলকে আটক করা হয়। এ সময় বালু ভর্তি একটি ড্রাম ট্রাক ও তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। পরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটকদের প্রত্যেকের দেড় লাখ টাকা করে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদ-ের আদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুজ্জামান।

জব্দকৃত ট্রাকটির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা গণেশ জানান, তার ড্রাইভার ও হেলপার দরিয়াপুরের হারুন এর কদমতলী পয়েন্ট থেকে বালু ক্রয় করে সরবরাহ করতে গিয়ে ফেঁসে গিয়েছেন। অভিযুক্ত হারুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ করে প্রতিবেদকের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।
মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান জানান, মূলহোতাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।