তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে রাবিতে গণজমায়েত

রাবি প্রতিবেদক:
তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গণজমায়েত ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ‘তিস্তা বাঁচাও আন্দোলন, রাবি’র উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বরে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন তিস্তা নদী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জেলার ছাত্র প্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, ভারত প্রশ্নে আমাদের সবাইকে একসাথে লড়তে হবে। চুক্তির নামে ভারতকে আমাদের যা কিছু দেওয়ার ছিল সব দেওয়া শেষ কিন্তু পানি আমরা পাচ্ছি না। বাংলাদেশ এবং ভারতের সব অসম চুক্তি বাতিল করতে হবে।
রাকসু’র ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, তিস্তা নদীতে গজলডোবা বাধ নির্মান করাসহ অন্যান্য নদীতে বাধ নির্মাণ করার পর থেকে পানি বন্টন চুক্তিতে আমাদের বারবার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, ছোট করা হচ্ছে এবং অসম্মান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ, নদী না বাচলে আমরাও বাঁচবো না। ভারত যেহেতু সবসময় বাংলাদেশে আধিপত্যবাদ দেখাতে চায়, সেহেতু ভারত প্রশ্নে আমাদের সবাইকে একসাথে লড়তে হবে।
রাবি সিনেটের নবনির্বাচিত সদস্য ফাহিম রেজা বলেন, তিস্তা প্রকল্প ও তিস্তা পানি চুক্তি বাস্তবায়ন উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রাণের দাবি। বাংলাদেশ এবং চীন সরকার তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বারবার কথা বললেও কোন এক অজানা কারণে সাফল্যের মুখ দেখছে না। যার ফলে বর্ষাকালে উত্তরবঙ্গের জেলা ও ফসলের মাঠ প্লাবিত হচ্ছে। আমাদের তথাকথিত একটি বন্ধু রাষ্ট্র আছে। তাদের সাথে আমাদের অনেকগুলো অসম চুক্তি রয়েছে। যার মধ্যে তিস্তা পানি বন্টন চুক্তি অন্যতম। (তিস্তা পানি বন্টন) চুক্তির নামে আমাদের যা কিছু দেওয়ার ছিল সব দেওয়া শেষ কিন্তু পানি আমরা পাচ্ছি না। বাংলাদেশ এবং ভারতের যত অসম চুক্তি রয়েছে তা বাতিল করতে হবে।
রাবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শেখ নূর উদ্দিন আবীর ভারতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মনে রাখবেন বাংলাদেশে হাসিনা কিন্তু আর নাই, এটা এখন জেন-জি’র বাংলাদেশ। আপনারা ভুলে যাইয়েন না আপনারা বড় ভাই নন, প্রতিবেশী। যদি বড় ভাই সুলভ আচরণ করেন আমরাও আপনাদের দেখে নিব।
এই গণজমায়েত ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রাকসু’র জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস এসএম সালমান সাব্বিরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে একাত্মতা পোষণ করেন।