শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

১২ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ১৬ সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যু

WP Import ২১ অক্টোবর ২০২৫ ০১:২১ অপরাহ্ন
WP Import ২১ অক্টোবর ২০২৫ ০১:২১ অপরাহ্ন
১২ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ১৬ সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যু
১২ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ১৬ সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যু


নিজস্ব প্রতিবেদক :


২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একযুগে ৬৭ হাজার ৮৯০ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৬ জন নিহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ২১ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৫ উপলক্ষ্যে নগরীর ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই তথ্য তুলে ধরেন। দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী এই পর্যবেক্ষণ করে এই তথ্য তৈরি করা হয়। খবর বিজ্ঞপ্তির।

গংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, স্বাধীনতার পূর্বে দেশে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী নৌ ও রেলপথ প্রধান বাহন হিসেবে ৮০ শতাংশ, সড়কে ২০ শতাংশ মানুষের যাতায়াত ছিল। তাই সড়কে দুর্ঘটনা ২০ শতাংশে সীমিত ছিল। স্বাধীনতার পরে দাতা সংস্থার প্রেসক্রিপসনে একের পর এক সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে বেহিসেবি লুটপাট, সড়কে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, বহুমাত্রিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবর্তে একের পর এক নতুন নতুন সড়ক নির্মাণ করে ৮০ শতাংশ মানুষের যাতায়াত সড়কে নিয়ে আসার কারণে সড়ক দুর্ঘটনাও ৮০ শতাংশ বেড়েছে।

সড়কে এই গণহত্যার জন্য সরকারের দুর্নীতি ও ভুলনীতিকে দায়ী করা হয়। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি শুধুমাত্র গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে এই তথ্য পেলেও তাদেও দাবি দেশের হাসপাতালগুলোর চিত্র বলছে হতাহতের সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। একই সময়ে ইসরাইল-ফিলিস্তিন যুদ্ধে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৬৭ হাজার। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৪৫ হাজার। এসব যুদ্ধে যে পরিমাণ লোক মারা গেছে বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। এমন ধারাবাহিক সড়কহত্যা বন্ধে বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের কার্যক্রমও প্রশ্নবিদ্ধ।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সড়ক পরিবহন সেক্টরে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও কতিপয় দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের চাদাঁবাজি ও নৈরাজ্যের কারণে সড়কের বিশৃঙ্খলা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের অবাধে চলাচল, লাইসেন্সবিহীন চালক, অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক, সড়কে ত্রুটি, চালকের মাদক গ্রহণ, বেপরোয়া গতি, অযোগ্য চালকের হাতে লাইসেন্স প্রদান, লাইসেন্সবিহীন-প্রশিক্ষণহীন চালকের হাতে যানবাহন তুলে দেওয়াসহ নানান কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় আধিক্য ও মৃত্যু হার বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মানুষের জীবন- সম্পদ রক্ষায়, যাতায়াতের ভোগান্তি লাঘবে জরুরীভিত্তিতে ১২ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়।