অপহরণের ২৫ দিনেও উদ্ধার হয়নি কলেজ ছাত্রী, দুর্গাপুরে অপহৃত মেয়েকে ফিরে পেতে বাবার আকুতি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী দুর্গাপুরে ২৫ দিন পেরিয়ে গেলেও অপহৃত কলেজ ছাত্রী জান্নাতুন নিশাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ওই ছাত্রী অপহরণের পর পরিবারের পক্ষে মামলা করলেও তার কোনো অগ্রগতি নেই। এমন কী পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধারেও তেমন তৎপরতা দেখাচ্ছে না। দায়সারা অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের দায়িত্ব শেষ করছে। এমন কী অপহরণ মামলার আসামীদের মধ্যে অনেকেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে অথচ পুলিশ বলছে আসামীদের খুঁজে পাচ্ছে না। এছাড়াও বাদিকে মামলা তুলে নিতে অব্যাহতভাবে আসামী পক্ষ হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর পৌর এলাকার সিংগা পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের মেয়ে জান্নাতুন নিশা (১৭) দুর্গাপুর ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া আশার সময় সিংগা মধ্যপাড়া গ্রামের বখাটে সোহান আলী (১৯) তাকে আপত্তিকর কথাবার্তা ও প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কলেজ ছাত্রী নিশা তার প্রস্তাবে রাজি না হলে বখাটে সোহান তাকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেয়। সোহানের প্রলোভন নিশা বুঝতে পেরে সতর্ক হয়।
এরই প্রেক্ষিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর জান্নাতুন নিশা বাড়ি থেকে কলেজে যাওয়ার পথে দুর্গাপুর ডিগ্রি কলেজের গেটের সামনে পৌঁছা মাত্র বখাটে সোহান তার সহযোগিদের নিয়ে তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে অপহরণ করে। নিশার বাবা বুঝতে পারেন তাকে সোহান অপহরণ করেছে। পরে তার বাসায় যান। কিন্তু সোহানের বাবা-মা তার সাথে অশালীন আচরণ করেন এবং তার মেয়েকে অপহরণের বিষয়টি স্বীকার করে। এ ঘটনায় মেয়ের বাবা আব্দুল জব্বার ২৩ সেপ্টেম্বর দুর্গাপুর থানায় সোহান আলী, তার বাবা শফিকুল ইসলাম ও অজ্ঞাতনামা আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলার প্রায় ২৫ দিন অতিবাহিত হলেও অপহৃত ওই কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি এ মামলায় কেউ গ্রেপ্তারও হয়নি। পুলিশের এমন গাফিলতিতে অপহৃতের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
অপহৃতার কলেজ শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল জব্বাব জানান, ‘আমার মেয়েকে অপহরণের পর আমি পুলিশের দ্বারে-দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু পুলিশ আমার মেয়েকে উদ্ধার করছে না। মামলা করার পর থেকে আসামীরা আমাদেরকে মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এতে আমি পরিবার নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি। তিনি বলেন, ২৫ দিন অতিবাহিত হলেও আমার মেয়ের কোনো সন্ধান করতে পারেনি পুলিশ। মেয়েকে উদ্ধারের জন্য আমি বারবার থানায় গিয়ে ওসি সাহেব ও মামলার তদন্ত কর্মকতাকে বলেছি। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা করছে না। আমার মেয়ে বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে তাও জানি না। মেয়েকে ফিরে পেতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সু-দৃষ্টি কামনা করেন আব্দুল জব্বার।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুর্গাপুর থানার এসআই হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্নস্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু তাদের কোনো হদিস করতে পারিনি। তবে যতদ্রুত ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হবে বলে জানান তিনি।