শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

নওগাঁয় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে মারপিটের অভিযোগ

WP Import ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৫২ অপরাহ্ন
WP Import ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৫২ অপরাহ্ন
নওগাঁয় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে মারপিটের অভিযোগ
নওগাঁয় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে মারপিটের অভিযোগ

মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি:


নওগাঁর হরিপুর গ্রামের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন গৃহবধূ নাছিমা বেগম (৫৫)। অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। সংসারের চাকা সচল রাখতে স্বামী-স্ত্রী জেলার মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি হাটের সবজি বাজারে করেন চায়ের দোকান। এ থেকে পেটেভাতে চলে তাদের সংসার। তুচ্ছ ঘটনায় দোকান ভাংচুর, লুটপাট ও প্রভাবশালিদের হামলার শিকার হয়ে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। অভিযোগ রয়েছে- বাকি না দেয়ায় তাদের ওপর হামলা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ওই গৃহবধূর স্বামী জেলার কুন্দুনা গ্রামের মৃত চিকন আলীর ছেলে আব্দুল হামিদ বাদি হয়ে রাইগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুকুল হোসেন ও তার ছেলে মুরাদ হোসেনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেন। এরআগে এদিন সকাল ১০টায় মাতাজি হাটের সবজি বাজারে হামলার শিকার হন তারা। মহাদেবপুর থানায় এজাহার দায়ের করে পড়েছেন চরম বিপাকে। আবারও তাদের ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ। অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন রেজা। তিনি জানান, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১৫ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে মাতাজি হাটের সবজি বাজারে নাছিমা বেগম-আব্দুল হামিদ দম্পতির দোকানে আগের বকেয়া পরিশোধ না করে আবারও বাকি চাইলে তারা মালামাল দিতে রাজি হননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মুকুলের ছেলে মুরাদ হামিদকে মারপিট করেন। নাছিমা বেগম তার স্বামীকে মারপিটে বাধা দিলে তাকেও বেদম প্রহার করে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করে দোকান ভাংচুর এবং লুটপাট করেন মুকুল ও তার সহযোগীরা।

এরপর হামিদ তার স্ত্রীকে মহাদেবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে থানায় এজাহার দায়ের করলে সন্ধ্যায় হামিদ ও তার ছেলে সাইদুল ইসলামের ওপর আবারও হামলা চালিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। সাইদুল বর্তমানে মহাদেবপুর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। জানতে চাইলে মুঠোফোনে অভিযুক্ত মুকুল হোসেন জানান, ওই দোকানে তার কোন লেনদেন নেই। মারপিটের কোন ঘটনা ঘটেনি। পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী একটি চক্র তাকে ফাঁসাচ্ছেন বলে দাবি তার।