শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

রাকসু নির্বাচন : ৩৫ বছর পর ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

WP Import ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
WP Import ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
রাকসু নির্বাচন : ৩৫ বছর পর ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা
রাকসু নির্বাচন : ৩৫ বছর পর ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা


নিজস্ব প্রতিবেদক :


দীর্ঘ ৩৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সপ্তদশ বারের অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট সদস্য নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ শেষ হবে বিকেল ৪টায়। এরপর গণনা ও ফল ঘোষণা। ভোট ঘিরে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে একজন ভোটারকে মোট ২৩টি পদ, হল সংসদ নির্বাচনে ১৫টি পদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের পাঁচটি পদ মিলিয়ে মোট ৪৩টি ভোট দিতে হবে। এসব ভোট দিতে ভোটারের জন্য বরাদ্দ থাকবে ১০ মিনিট। অর্থাৎ প্রতিটি ভোট দিতে গড়ে প্রায় ১৪ সেকেন্ড করে সময় পাবেন একজন ভোটার। ভোটাররা নির্দিষ্ট ঘরে ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট প্রদানের পাশাপাশি সঠিক রঙের ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপার ফেলবেন।

নয়টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রের ৯৯০ বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটিতে থাকছে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স। ছয়টি আলাদা ব্যালটে ভোট দিতে হবে। ভোটগ্রহণ শেষে রাকসু কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে ভোট গণনা এবং কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এবারের রাকসু নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ২৪৭ জন প্রার্থী।

রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এফ. নজরুল ইসলাম জানান, নির্বাচনের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। একজন ভোটার ৪৩টি ভোট দেবেন, সময় লাগবে ১০ মিনিট। প্রতিটি ভোটে সময় পাবেন প্রায় ১৪ সেকেন্ড। এছাড়া নিরাপত্তা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রক্টরিয়াল বডির পাশাপাশি ১২টি বিজিবি টিম, ২৪টি র‌্যাব টিম এবং প্রায় ২ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

তিনি আরো জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে ১০০টি সিসি ক্যামেরা। সব মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও গোছানো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

এবার রাকসুতে ছাত্রদল ও শিবির সমর্থিতসহ মোট ১১টি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনে ২৩টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৪৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে ১৮, জিএস পদে ১৩ এবং এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৬ জন। এছাড়া বাকি ২০টি পদে ২০০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের পাঁচটি পদে ৫৮ জন প্রার্থী এবং হল সংসদ নির্বাচনের ১৫টি পদের বিপরীতে ১৭টি হলে মোট ৫৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রাকসু ও সিনেট নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ জন এবং পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এর আগে ১৬টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৬২ সালে রাকসুর যাত্রা শুরু। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়েও এটি ছিল শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্রধান প্ল্যাটফর্ম। তবে ১৯৮৯ সালের পর থেকে এটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।#