ঈশ্বরদীতে মব সৃষ্টি করে অধ্যক্ষকে কলেজ থেকে বিতাড়িত করা হল! শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতি : বিক্ষোভ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:
পাবনার ঈশ্বরদীর ঈশ্বরদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. আসলাম হোসেনকে বুধবার (১৫ অক্টোবর) মব সৃষ্টি করে জোরপূর্বক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এসময় অধ্যক্ষের কক্ষে শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতি ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও অধ্যক্ষসহ স্থানীয়রা জানান, গত বছর জুলাই আন্দোলনের পর সাময়িক বরখাস্থ করা অধ্যক্ষ আসলাম হোসেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চাকরি ফিরে পেয়ে গতকাল বুধবার কলেজে আসেন। তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে সকল শিক্ষকদের নিয়ে সভা করার সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাবিনা ইয়াসমিন, শিক্ষক লোকমান হোসেন ও ফারহানা আফরোজ বাধা দিলে শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতি ও হট্টগোল বাধে। এসময় দু’তিন জন শিক্ষকের সঙ্গে কয়েকজন বহিরাগত এসে অধ্যক্ষের কক্ষেই মব সৃষ্টি করে।
সেসময় শিক্ষকরা বাগ্বিতন্ডা ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশী প্রহরায় অধ্যক্ষ আসলাম হোসেন কলেজ থেকে চলে যান। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্স করে পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারি সকল নিয়ম মেনে উচ্চ আদালত এবং শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি কলেজে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাই। এসময় দু’একজন শিক্ষক ও বহিরাগতরা এসে মব সৃষ্টি করে। আমাকে জোরপুর্বক দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়নি। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাবিনা ইয়াসমিন এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.স.ম. আব্দুন নূর বলেন, ঈশ্বরদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. আসলাম হোসেন থানা পুলিশকে অবহিত করে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করতে যান। সেখানে হট্টগোল ও বিক্ষোভ সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঈশ্বরদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট অধ্যক্ষ আসলাম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়, তার ২ মাস পর বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড। পরবর্তীতে হাইকোর্টে এ বিষয়ে রিট পিটিশন দায়ের করলে উচ্চ আদালত তাকে কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দিলে তিনি বুধবার দায়িত্ব গ্রহনের জন্য তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসেন।