নগরীতে জমি দখল করে রাস্তা তৈরির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে অবসরপ্রাপ্ত এক ব্যাংক কর্মকর্তার জমি দখল করে রাস্তা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১২ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পরিবারটি এ অভিযোগ করেছে। তাদের বাড়ি নগরীর মেহেরচন্ডী পূর্বপাড়ায়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জমির মালিক ফারুক হুসাইন। তিনি জানান, ১৯৯৬ সালে তিনি জমি কিনে বাড়ি তৈরি করে মেহেরচন্ডী পূর্বপাড়ায় বাস করছেন। তার বাড়িটি সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল। সম্প্রতি একদিকের প্রাচীর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এরপর সেখান দিয়ে একটি রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এই জায়গাটি লম্বায় ৫৬ ফুট। প্রস্থে ৪ ফুট।
তিনি জানান, তার বাড়ির পেছনে আনিছুর রহমান, আব্দুল হামিদ, তাহাসিন আলী ও মখলেসুর রহমান দুলাল নামের চারজনের বাড়ি আছে। এদের মধ্যে হামিদ ও দুলাল জামায়াত করেন। তাহাসেন করেন তাবলীগ জামায়াত। আর আনিসুর আওয়ামী লীগের কর্মী।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে আনিসুর রহমান দলীয় কাউন্সিলর আক্তারুজ্জামান কোয়েলের মাধ্যমে প্রাচীর ভেঙে নিজেদের বাড়ি যাওয়ার রাস্তা তৈরির চেষ্টা করেন। কোয়েল সালিশ ডেকে রাস্তা করার পক্ষে রায় দেন। এর বিরুদ্ধে তারা আদালতে মামলা করেছেন। মামলা এখনও চলমান। এরইমধ্যে আওয়ামী সরকারের পতনের পর নতুন করে রাস্তা তৈরির চেষ্টা শুরু করেন জামায়াতকর্মী হামিদ ও দুলাল। তাদের সহযোগিতা করছেন সোহেল নামের এক ব্যক্তি।
লিখিত বক্তব্যে ফারুক হুসাইন বলেন, গত ১০ অক্টোবর আমরা গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরে গিয়েছিলাম। সেদিন আমাদের অনুপস্থিতিতে জামায়াতের মতিহার থানার আমির মোজাম্মেল হক ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির মিলনের উপস্থিতিতে সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে আমরা থানায় ফোন করি। পুলিশ এসে রাস্তা নির্মাণ করতে নিষেধ করে। তা স্বত্ত্বেও তারা আমাদের প্রাচীর ভেঙে রাস্তা করে।
ফারুক হুসাইন জানান, তারা হুমকির মুখে আছেন। তাদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য তারা বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী নগর পুলিশের কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে ফারুকের স্ত্রী হাসনারা খাতুন এবং ছেলে ইসাব মারয়াম উৎস উপস্থিত ছিলেন।
আবদুল হামিদ বলেন, যে জায়গাটা দখলের কথা বলা হচ্ছে, সেটা আমাদের চারজনের কেনা জমি। আদালতের রায় আছে। স্থানীয় লোকজন ফারুক হুসাইনকে প্রাচীর ভেঙে নিয়ে জায়গা ছেড়ে দিতে বললেও তিনি ছাড়েননি। আমাদের বাড়ি যাওয়ার আর রাস্তা নেই। আমাদের কাছে আর কোনো উপায় ছিল না। আমরা প্রাচীরটা ভেঙে রাস্তা করে ফেলেছি।
প্রাচীর ভাঙার সময় জামায়াত নেতা মোজাম্মেল হক ও মিলন ছিলেন কি না, এ প্রশ্নে হামিদ বলেন, আমি জামায়াত করি। বিষয়টি তাদেরকে জানানো হয়েছে। তারা ভেঙে নিতে বলেননি। ভাঙার সময় স্পটেও ছিলেন না। আমাদের কাজ আমাদেরকেই করতে হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে জামায়াত নেতা মিলনকে ফোন করা হলে তিনি কেটে দেন। আর মোজাম্মেল হক বলেছেন, তিনি একটি সমাবেশে আছেন। শেষ করে ফোন করবেন। পরে আর ফোন করেননি। তাই অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।