সোনামসজিদ স্থলবন্দরে এলো ৬৬ টন কাঁচা মরিচ, বাজারে দর পতনের আভাস

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :
নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মরিচের খেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল কাঁচামরিচের দাম। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে।
শনিবার ও রোববার-দুই দিনে বন্দরে মোট ৬৫ দশমিক ৮১ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ এসেছে বলে জানিয়েছেন সোনামসজিদ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক সমীর চন্দ্র ঘোষ। তিনি জানান, সাধারণত এই স্থলবন্দর দিয়ে মরিচ খুব একটা আসে না, তবে এবার চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় আমদানি শুরু হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুরান বাজারের ব্যবসায়ী বুদ্দু মন্ডল জানান, কয়েকদিন আগে কাঁচামরিচের দাম ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি পর্যন্ত উঠেছিল। এখন আমদানি শুরু হওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে, আজ ২৬০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করেছি। আমদানি বাড়লে দাম আরও কমবে বলে আশা করি।
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে খেতে মরিচ নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ কমে যায়। এর সঙ্গে পূজার ছুটিতে আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে সংকট তৈরি হয়। মাত্র এক সপ্তাহ আগে যে মরিচ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় এবং খুচরায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়, সেই মরিচই এক সপ্তাহে প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।
বেসরকারি বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মাঈনুল ইসলাম জানান, শনিবার ৩০ মেট্রিক টন এবং রোববার আরও ৩৫ দশমিক ৮১ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই এসব মরিচ দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছাবে, এতে বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।
তিনি আরো বলেন, দুর্গাপূজার ছুটি শেষে শনিবার থেকে আমদানি-রপ্তানি শুরু হয়েছে। যেহেতু কাঁচা মরিচ পচনশীল পণ্য, তাই দ্রুত ছাড়করণে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে আমদানিকারকদের। প্রতি টন কাঁচা মরিচ ৫০০ ডলারে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। আর প্রতি কেজিতে শুল্ক দিতে হচ্ছে ৩৬ টাকা ৪০ পয়সা। আমদানি বাড়লে কাঁচা মরিচের দাম আরো কমবে।
এর আগে গত ২৩ আগস্ট এই স্থলবন্দর দিয়ে মাত্র ৮ দশমিক ৪ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছিল। বর্তমানে বন্দর দিয়ে মোট ৫ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ আমদানির অনুমোদন (আইপি) দেওয়া হয়েছে।