পুঠিয়ায় সড়কে প্রাণ গেল পাঁচজনের
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পাশে ঝলমলিয়া কলাহাটে উল্টে পড়া বালুবাহী ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, নাটোর সদরের কাফুরিয়া এলাকার শাহিনের ছেলে সিয়াম (১৫), সদরের পাকিপাড়ার আক্কেল প্রামানিক ছেলে মুনকের (৩৫), বাগাতিপাড়া সালাইনগরের সৈয়দ উদ্দিনের ছেলে সেন্টু (৪০), চারঘাটের অস্কারপুরের মৃত মাহাতাবের ছেলে ইসলাম উদ্দিন (৬০) ও চারঘাট উপজেলার খুঁটিপাড়া গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে রায়হান ইসলাম (৪০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে ঘন কুয়াশার মধ্যে নাটোরগামী একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে বসা কলার হাটে ঢুকে পড়ে। এ সময় ট্রাকটি উল্টে গেলে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন কলা ব্যবসায়ীর ওপর বালু ও ট্রাকের অংশ চাঁপা পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।
পুঠিয়া থানার পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর নিহতদের মধ্যে একজনের মরদেহ স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। মোট চারজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পরে ঘটনাস্থলেই তিনটি মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, নিহতরা সবাই কলা ব্যবসায়ী বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তারা সকালে হাটে কলা কেনাবেচার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ করে বালুবাহী ট্রাকটি উল্টে পড়ায় তারা সরে যাওয়ার সময় পাননি।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেল পাঁচটার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রায়হান ইসলামের (৪০) মৃত্যু হয়েছে।
এরআগে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে ঘটনায় রায়হানের দুই পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপরে তাকে ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়। রায়হান ছোট বেলা থেকে কলার ব্যবসা করেন। তার পেশা হাটে কলা কিনে জেলার বাইরের ব্যবসীদের কাছে বিক্রি করা। সংসার জীবনে রায়হানের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। এরমধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। রাহানের স্ত্রী গৃহিণী।
এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালে মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রায়হানের মৃত্যু হয়েছে। তার মরদেহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পবা হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজি বলেন, আমরা তো লাশ শনাক্ত করে মরদেহ পরিবারের হস্তান্তর করেছি। লাশ উদ্ধার ও বডি ব্যাগে (মরদেহ বহনের ব্যাগ) প্যাকেট করার কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। বিস্তারিত তারা বলতে পারবেন। আর নিহতের স্বজনরা আসছেন এ বিষয়ে মামলা হবে।’