নগরীতে তুচ্ছ ঘটনায় স্কুলশিক্ষিকার উপর হামলা
রাজশাহী নগরীতে বাড়ির গলিতে সুড়কি ফেলা নিয়ে এক শিক্ষিকার উপর হামলা চালিয়েছে প্রতিবেশিরা। এতে ওই স্কুলশিক্ষিকা গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এই শিক্ষিকার নাম শিলা খাতুন। তিনি নগরীর খাদেমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা। এর আগে শনিবার (২০ জুন) বিকেলে নগরীর তালাইমারী বাজে কাজলা এলাকায় তার উপরে হামলা হয়।
অভিযুক্তরা হলেন, রিপন আলী (৩২), তার বড়ভাই পারভেজ আলী স্বপন (৩৮) রিপনের স্ত্রী আফসানা মিমি (৩০), তাদের বেবী বেগম (৫০) ও স্বপনের স্ত্রী শিখা বেগম (৩৩)
শিলা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, রোববার সকালে আমার বড় বোনের বাড়িতে মিস্ত্রি কাজ করছিল। বড় বোনের ছেলে আমাদের বাড়ির গলিতে কিছু সুড়কি দিয়েছিল। পরে গলির সড়কটি আমরা পাকা করে নেব। কিন্তু আমাদের প্রতিবেশি সম্পর্কে আমার ফুপাতো ভাই হয় তারা এসে ঝামেলা শুরু করে। আমার বোনের ছেলের উপরে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আমি বাধা দেওয়ায় তা পারেনি।
তিনি আরও বলেন, আমি বিকেল চারটায় স্কুল থেকে ফিরছিলাম। রিকশা ভাড়া দিচ্ছি। এসময় অভিযুক্তরা আমাকে ঘিরে ধরে। রাস্তার উপরে তারা আমাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়েছে। মাথাও আঘাত করেছে। ব্যাগে থাকা টাকা ও হাতে থাকা স্বর্ণের ব্যাসলেটও ছিনিয়ে নিয়েছে। এরপর থেকে তারা আমাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি আছি তারা এখানে এসেও হুমকি দিয়েছে।
তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের ঝামেলা জমি নিয়ে। তাদের আসল বাড়ি বাঘা উপজেলার আড়ানীতে। এখানে এসে বসবাস করছে। আমাদের ভাইবোনদের মধ্যে জমি ভাগাভাগি হয়ে গেছে। এই জমির মধ্যে তাদের সামনে দোকান ও একেবারে পেছনে অংশে তারা বসবাস করে। তারা আমাদের বাড়ি করতে দেবে না। এবং বাড়ির কাজ করতে মিস্ত্রি আসলে তাদের গালিগালাজ ও মারধর করে পাঠিয়ে দেবে। গলিতে রিকশা বা ভ্যানও ঢুকতে দেবে না।
এই স্কুলশিক্ষিকা আরও বলেন, ২০২২ সালে মে মাসের শেষে আমার বাড়ির নির্মাণ কাজ করার সময় তারা হামলা চালিয়েছিল। এতে আমার বাম পায়ের আঙ্গুল ভেঙে যায়। সে মামলা এখনও চলছে। গেল জানুয়ারি মাসে আমার বড় বোনের ছেলে বাপ্পিকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে। তার মামলাও চলছে। এসব মামলা তোলার জন্য প্রতিনিয়ত তারা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আর ইচ্ছে হলেই তারা আমার বাড়িতে হামলা চালায়।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত রিপন আলীর মুঠোফোনে কয়েকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবীর বলেন, এই ঘটনা শুনেছি। কিন্তু শিক্ষিকা থানায় অভিযোগ করেননি। এর আগের মামলাও চলমান আছে। তাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা আছে। স্কুলশিক্ষিকা অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।