রাজশাহীতে অটোরিকশার অননুমোদিত ভাড়া বৃদ্ধিজনিত জনভোগান্তি নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণসহ চার দাবি
রাজশাহী মহানগরীতে কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন বা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) পূর্বঘোষণা ছাড়াই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্বঘোষিত ও লাগামহীন ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং সাধারণ জনগণের চরম ভোগান্তি নিরসনে রোববার (২১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বরাবর প্রদান করা হয়েছে।
রাজশাহীর সাধারণ জনগণের পক্ষে ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ - ইয়্যাসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়ের সভাপতি লেখক, উন্নয়ন ও অধিকারকর্মী (শ্রেষ্ঠ যুব সম্মাননাপ্রাপ্ত) মো. শামীউল আলীম শাওন ও ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়ের সাধারণ সম্পাদক সাংস্কৃতিক কর্মী মো. রবিন শেখ যৌথস্বাক্ষরিত এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এছাড়া বিষয়টি সম্পর্কে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্মারকলিপির অনুলিপি রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে জমা দেয়া হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয় যে, গত ১৫ জুন ২০২৬ থেকে মহানগরীর অভ্যন্তরে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোর সর্বনিম্ন ভাড়া কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন ব্যতিরেকেই হুট করে এক লাফে ৫ (পাঁচ) টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১০ (দশ) টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল কোনো প্রকার লোগো বা বৈধতা ব্যতীত বেনামী লিফলেট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনগড়া ও কাল্পনিক ভাড়া তালিকা প্রচার করে সাধারণ চালক ও যাত্রীদের মধ্যে কৃত্রিম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধির ফলে মহানগরীর সাধারণ যাত্রী, চাকুরিজীবী, শিক্ষার্থী এবং নিম্নআয়ের মেহনতি মানুষ প্রতিদিন তীব্র আর্থিক হয়রানি ও চরম মানসিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে যাত্রীদের সাথে চালকদের বাকবিতণ্ডা, উত্তেজনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবণতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বলা হয়, রাসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ই-সাঈদ স্পষ্টভাবে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, ভাড়া পুনর্র্নিধারণের বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি এবং এই ঘোষিত ভাড়ার উৎসের বিষয়েও কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছে।