রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

বাস ধর্মঘটে নাটােরে যাত্রীদের দুর্ভোগ

WP Import ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০১:৪৬ অপরাহ্ন
WP Import ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০১:৪৬ অপরাহ্ন
বাস ধর্মঘটে নাটােরে যাত্রীদের দুর্ভোগ
বাস ধর্মঘটে নাটােরে যাত্রীদের দুর্ভোগ


নাটোর প্রতিনিধি :


মালিক শ্রমিক দ্বন্দ্বে হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিকল্প হিসেবে কেউ কেউ বগুড়া. সিরাজগঞ্জ. ও বনপাড়া হাটিকুমরুল গিয়ে দুরর্বতী বাসে উঠছেন। তবে নাটোর-রাজশাহী থেকে শুধু ছেড়ে যাচ্ছে মহাখালীভিত্তিক একতা ট্রান্সপোর্ট।

আধাঘণ্টা পরপর বাস ছাড়লেও চাহিদামত টিকিট মিলছে না যাত্রীদের। এদিকে দূর্গা পূজার ছুটির আগে হঠাৎ বাস বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে ছুটছেন বিকল্প পথ হিসাবে ট্রেন ও লোকাল বাস।

জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর থেকে ঢাকা রুটে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে দুই দফা কর্মবিরতি পালন করেছিলেন শ্রমিকরা। সবশেষ কর্মবিরতিতে মালিকরা তাদের দাবি মেনে নিলে আবারও বাস চলাচল শুরু হয়। কিন্তু মালিকরা মেনে নেওয়া বেতন দিতে ইচ্ছুক না। তাই মালিকরা বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন।

শনিবার সকালে নাটোর শহরের হরিশপুর বাসটার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়. বাসে ওঠার জন্য ঢাকা, কুমিল্লা ও চিটাগাং যাওয়ার জন্য টার্মিনালের বিভিন্ন কাউন্টারে অপেক্ষা করছেন নারী-শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী যাত্রীরা।

ঢাকা ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন রায় বলেন, ‘পূজার আগে দুই দিনের ছুটিতে এমনিতেই ট্রেন-বাসে প্রচণ্ড ভিড়। এর মধ্যে হঠাৎ বাস বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। আগে জানলে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারতাম।

অপর এক যাত্রী পোশাককর্মী মোনয়ারা খাতুন বলেন, ‘শনিবার ঢাকায় কাজে যোগ দেওয়ার কথা। কিন্তু রাতে কাউন্টারে শুনলাম বাস চলবে না। কীভাবে ঢাকায় যাবো, তা নিয়ে চিন্তিত বুঝতে পারছি না কি করবো।

আরেক যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিক-মালিকদের দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত বাস চালাচল স্বাভাবিক করা উচিত। এভাবে দুএকদিন পর পর কোন ঘোষনা ছারাই বাস বন্ধ করায় যাত্রীদের অনেক ভোগান্তিতে পরতে হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পরিবহণ শ্রমিকদের তথ্যমতে জানা যায়, রাজশাহী থেকে ঢাকায় প্রতি ট্রিপে একজন চালক এক হাজার ২৫০ টাকা, সুপারভাইজার ৫০০ টাকা এবং সহকারী ৪০০ টাকা পেতেন। সম্প্রতি শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবি তুললে দুই দফায় বাস চলাচল বন্ধ হয়। এ পরিস্থিতি নিরসনে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় শ্রমিকপক্ষ ও মালিকপক্ষ বৈঠক করে। এতে সিদ্ধান্ত হয়, চালকরা এক হাজার ৭৫০ টাকা, সুপারভাইজাররা ৭৫০ টাকা এবং সহকারীরা ৭০০ টাকা করে পাবেন।

গত শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন বেতন কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই মালিকপক্ষ বেশি বেতন দিতে রাজি নয় জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বাস বন্ধের ঘোষণা দেন।

স্থানীয় বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী শাহ আলম বলেন, এখন শ্রমিকেরা দূরপাল্লার বাস যেখানে-সেখানে থামিয়ে যাত্রী তুলতে চাচ্ছে। খোরাকি ভাতা দাবি করছে। যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী তুললে তো ব্যবসা করা যাবে না। এটা নিয়ে তাদের সঙ্গে নতুন করে বিরোধ। তারা বাস চালাবে না বলেছে। আমরাও বলেছি, ঠিক আছে, এভাবে বাস চালাতে চাই না। কয়দিন বসে থাকবে থাকুক।

এব্যাপারে নাটোর জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘মালিকদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর বাড়তি বেতন নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বাস্তবায়নের আগে বাস বন্ধ করা ন্যক্কারজনক। এতে যাত্রীরা যে ভোগান্তিতে পড়েছেন তা বর্ণনার বাইরে।

পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়টা ঢাকা কেন্দ্রিক হওয়ায় জনালো কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। তার পরেও স্থানীয় ভাবে লোকাল বাস বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। এছারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাতে বিষয়টি পৌছে সে ব্যাপারে তিনি কাজ করবেন।