রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফুটবলে পারলেও ক্রিকেটে পারেনি বাংলাদেশ

WP Import ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
WP Import ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফুটবলে পারলেও ক্রিকেটে পারেনি বাংলাদেশ
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফুটবলে পারলেও ক্রিকেটে পারেনি বাংলাদেশ

সোনার দেশ ডেস্ক:


এশিয়া কাপের সুপার ফোরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটা কার্যত পরিণত হয়েছিল অঘোষিত সেমিফাইনালে। বল হাতে পাকিস্তানকে ১৩৫ রানে রুখে দিতে পারলেও ব্যাট হাতে প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি তারা। ব্যাটিং ব্যর্থতায় পাকিস্তানের কাছে ১১ রানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। আর প্রথমবারের মতো আগামী রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পাকিস্তান।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বার) একই দিনে কলম্বোয় সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলল বাংলাদেশ। সেই লড়াইয়ে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। দুটি গোল বাতিল না হলে জয়ের ব্যবধান ৪-০ হতে পারত বাংলাদেশের। কলম্বোর রেসকোর্স স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ গোলদুটি পেয়েছে প্রথম চার মিনিটেই। আসলে এক মিনিটের ব্যবধানে আসে দুই গোল। তৃতীয় মিনিটে প্রথম গোলটি অধিনায়ক নাজমুল হুদা ফয়সালের। চতুর্ত মিনিটে অপর গোলটি করেন অপু রহমান। দুটি গোলই হয়েছে পাকিস্তানি গোলরক্ষক সামার রাজ্জাকের ভুলে।

তৃতীয় মিনিটে ভুল থ্রোয়ে রাজ্জাক বল তুলে দেন অপুর পায়ে। তার পাস পাকিস্তানের এক ডিফেন্ডারের পা হয়ে চলে যায় অন্য প্রান্তে থাকা ফয়সালের কাছে। ফাঁকা পোস্টে অনায়াসে লক্ষ্যভেদ করেন ফয়সাল। পরের মিনিটে দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক দিয়ে অপুর দারুণ শট লাফিয়ে ওঠা গোলরক্ষকের গ্লাভস ফাঁকি দিয়ে জড়ায় জালে। ১৩ মিনিটে আরেকবার জাল কাঁপান বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে গোলের উল্লাস করার আগেই বাজে অফসাইডের বাঁশি। একটু পর আব্দুল্লাহর গোলও বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। এই ম্যাচের পর সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমি-ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে ভারত পেল প্রত্যাশিত জয়। তাতে গতবারের মতো আবারও শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চে দেখা হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের।

কলম্বোর রেসকোর্স স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ৩-০ গোলে জিতেছে প্রতিযোগিতার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। বয়সভিত্তিক এই ক্যাটাগরিতে প্রথম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। গত বছর ফাইনালে তাদের কাছে ২-০ গোলে হেরে স্বপ্ন গুঁড়িয়েছিল ছেলেদের। এবার আর স্বপ্ন ভঙ্গের হতাশায় ডুবতে চান না বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। “প্রথমেই আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই; আমাদের যে লক্ষ্য, আমরা সেটার খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। ছেলেরা তিনটা ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও পরিশ্রম করে ফাইনালে উঠেছে। আমরা আমাদের লক্ষ্য থেকে কিছুটা দুরে আছি। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, আমরা যেন ফাইনালে লক্ষ্য পূরণ করতে পারি।” কোচের সুরে সুর মিলিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হুদা ফয়সালও।

পাকিস্তানের বিপক্ষে গোল করা এই ফরোয়ার্ড ফাইনালেও গ্যালারিতে দেখতে চান সমর্থকদের। “অনেক অনেক ভালো লাগছে, শুরু থেকে ভালো খেলে দল ফাইনালে ওঠায়। দলের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই, আমাকে সমর্থন দেওয়ায়। প্রথম ম্যাচ থেকে বাংলাদেশের সমর্থকরা যেভাবে সমর্থন দিয়েছে, এজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ। এখন আমরা ফাইনালে। ফাইনালেও আমাদেরকে সেভাবে সমর্থন দিয়ে যাবেন, যাতে আমরা ভালো করতে পারি।”

অন্যদিকে ছোট লক্ষ্য, বড় হতাশা! বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যা করলেন, সেটিকে বলা যায় স্রেফ পাগলামো কিংবা বোধহীন ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী। দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্স যে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছিল, তা বন্ধ হয়ে গেলে ব্যাটিং ব্যর্থতায়। ঠিক উল্টো চিত্র পাকিস্তানের। ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতা পুষিয়ে দিয়ে উজ্জীবিত বোলিং-ফিল্ডিংয়ে তারা পৌঁছে গেল ফাইনালে। লক্ষ্য ছিল স্রেফ ১৩৬। বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, লক্ষ্য বুঝি ২৩৬! অতি অস্থিরতা আর বড় শটের চেষ্টায় উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠলেন একের পর এক ব্যাটসম্যান। তাতেই ফাইনাল-স্বপ্নের অপমৃত্যু।
সেমিফাইনালে রূপ নেওয়া সুপার ফোর পর্বের ম্যাচে ১১ রানের জয়ে ফাইনালের ঠিকানা পেয়ে গেল পাকিস্তান। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, সেই ১৯৮৪ সালে শুরু যে টুর্নামেন্ট, ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ১৭তম আসরে প্রথমবার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান।

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াাম বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানকে ১৩৫ রানে বেঁধে রেখে বাংলাদেশ আটকে যায় ১২৪ রানে।
ম্যাচের আগেই একটি বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের মতো এ দিনও চোটের কারণে খেলতে পারেননি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। আবার নেতৃত্ব দেন জাকের আলি। রান তাড়ায় লিটনের অভাব অনুভূত হয় আরও বেশি।

টস হেরে ব্যাটিং পেয়ে খুশিই ছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা। আগে ব্যাটিংই চেয়েছিলেন তারা তবে তার সেই হাসি মিলিয়ে যায় দ্রুতই। চার নম্বর ব্যাটসম্যান হয়েও তাকে ক্রিজে যেতে হয় যে দ্বিতীয় ওভারেই!
ম্যাচের প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে বিদায় করেন তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টি উইকেটের সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ৩০ বছর বয়সী পেসার।
পরের ওভারে শেখ মেহেদি হাসানের বল মিড অনে তুলে দেন সাইম আইয়ুব। এবারের এশিয়া কাপে ছয় ইনিংসের চারটিতেই শূন্য রানে ফিরলেন সাইম। ৪৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারেই তার ‘ডাক’ ৯টি! প্রথম দুটি উইকেটে ক্যাচ নেওয়া রিশাদ হোসেন বোলিংয়ে এসে বিদায় করেন আরও দুজনকে। জায়গা বানিয়ে খেলার চেষ্টায় লং অফ সীমানায় ধরা পড়েন ফাখার জামান (২০ বলে ১৩)। ড্রেসিং রুমের বাইরে তখন স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদের মুখে চওড়া হাসি। সম্ভবত ফাখারের জন্য এমন পরিকল্পনাই ছিল তাদের। রিশাদের পরের শিকার আগের ম্যাচের ম্যাচ-সেরা হুসেইন তালাত।

সালমান তখনও লড়ে যাচ্ছিলেন এক প্রান্তে। দ্বিতীয় স্পেলে আক্রমণে ফিরে কাটারে তাকে (২৩ বলে ১৯) বিদায় করেন মুস্তাফিজ। পাকিস্তানের রান তখন ৫ উইকেটে ৪৯। পঞ্চাশ ছুঁতেই প্রায় ১১ ওভার লেগে যায় তাদের। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া শাহিন শাহ আফ্রিদি ১ রানে সোহানের কাছে জীবন পেয়ে বিশাল দুটি ছক্কা মারেন তানজিম ও তাসকিনকে। তবে তাসকিনের ফুল টস আকাশে তুলে তিনি বিদায় নেন ১৩ বলে ১৯ করে।

মোহাম্মাদ নাওয়াজ শূন্য রানেই রক্ষা পান পারভেজ হোসেন ইমন ক্যাচ নিতে না পারায়। সেটির খেসারত কিছুটা দিতে হয় দলকে। দুটি ছক্কায় ১৫ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি। ইনিংসের সেরা ৩৮ রানের জুটি গড়েন তিনি মোহাম্মাদ হারিসের সঙ্গে।

দলের সর্বোচ্চ ৩১ রান (২৩ বলে) আসে হারিসের ব্যাট থেকে। নিজের বলে দারুণ রিফ্লেক্স ক্যাচ নিয়ে তাকে থামান শেখ মেহেদি। শেষ দিকে ৯ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন ফাহিম আশরাফ। প্রথম ১৩ ওভারে ৬৫ রান করা পাকিস্তান পরের ৭ ওভারে তোলে ৭০। রান তাড়ায় বাংলাদেশ প্রথম ওভারেই হারায় পারভেজ হোসেন ইমনকে। এই সংস্করণে প্রথম ওভারে উইকেট প্রাপ্তির রেকর্ডকে ২২ শিকারে নিয়ে যান আফ্রিদি। আগের দুই ম্যাচে ফিফটি করা সাইফ হাসান চেষ্টা করেন পাল্টা আক্রমণের। ফাহিম আশরাফের বলে ছক্কার পর হারিস রউফের ওভারে ছক্কা ও চার মারেন তিনি দারুণ শটে। পঞ্চম ওভারে দুই ব্যাটসম্যান প্রায় এক প্রান্তে চলে গেলেও রান আউট করতে পারেনি পাকিস্তান। তবে আফসোসও করতে হয়নি। দুই ব্যাটসম্যান উইকেট উপহার দিয়ে বিদায় নেন। আফ্রিদিকে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় আউট জন হৃদয় (১০ বলে ৫)। রউফের বলে পয়েন্টে ধরা পড়েন সাইফ (১৫ বলে ১৮)। আফ্রিদির একটি আলগা ডেলিভারি পেয়ে ছক্কায় উড়িয়ে দেন চারে নামা শেখ মেহেদি। ক্রিজে গিয়েই রউফের গতির কারণে ব্যাটের কানায় লেগে ছক্কা পেয়ে যান সোহান। পাওয়ার প্লেতে চারটি ছক্কা পায় বাংলাদেশ। রান ওঠে তার পরও মাত্র ৩৬। উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার মিছিলে সঙ্গী হন পরে শেখ মেহেদিও (১০ বলে ১১)।

একাদশে ফেরা সোহান যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, ছটফট করেছেন প্রায় প্রতি বলে। কিন্তু সৌভাগ্যের শুরুর ছক্কার পর না পেরেছেন আর বড় শট খেলতে, না পেরেছেন বলপ্রতি রান নিতে। তার যন্ত্রণাদায়ক ইনিংসের সমাপ্তি হয় ২১ বলে ১৬ রান করে। দলের বিপদ আরও বাড়িয় বাজে শটে উইকেট হারান অধিনায়ক জাকেরও (৯ বলে ৫)। তার পরও বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন শামীম হোসেন। দুটি ছক্কা মারা ছাড়াও দারুণ খেলছিলেন তিনি। কিন্তু আফ্রিদির স্লোয়ারে রিভার্স ল্যাপ খেলে তার ২৫ বলে ৩০ রানের ইনিংস শেষ হওয়ায় বাংলাদেশের সম্ভাবনাও কার্যত শেষ হয়ে যায়। শেষ দিকে রিশাদ হোসেনের রানের ইনিংসে ব্যবধান কমায় বাংলাদেশ। তাতে তো আর ফাইনালের টিকেট পাওয়া যায় না!

স্কোর:
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৩৫/৮ (ফারহান ৪, ফাখার ১৩, সাইম ০, সালমান ১৯, তালাত ৩, হারিস ৩১, আফ্রিদি ১৯, নাওয়াজ ২৫, ফাহিম ১৪*, রউফ ৩*; তাসকিন ৪-০-২৮-৩, মেহেদি ৪-০-২৮-২, তানজিম ৪-০-২৮-০, মুস্তাফিজ ৪-০-৩৩-১, রিশাদ ৪-০-১৮-২)।
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৪/৯ (সাইফ ১৮, পারভেজ ০, হৃদয় ৫, শেখ মেহেদি ১১, সোহান ১৬, শামীম ৩০, জাকের ৪, তানজিম ১০, রিশাদ , তাসকিন ৪, মুস্তাফিজ ৬; আফ্রিদি ৪-০-১৭-৩, ফাহিম ২-০-১৮-০, রউফ , আবরার ৩-০-১৩-০, সাইম ৪-০-১৬-২, নাওয়াজ ৩-০-১৪-১)
ফল: পাকিস্তান ১১ রানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: শাহিন শাহ আফ্রিদি।