রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

‘রূপপুর গ্রিনসিটি প্রকল্পের বালিশ কান্ড’ তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে অবনমিতকরণ, সহকারী প্রকৌশলী অপসারণ

WP Import ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৮:৩৩ অপরাহ্ন
WP Import ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৮:৩৩ অপরাহ্ন
‘রূপপুর গ্রিনসিটি প্রকল্পের বালিশ কান্ড’ তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে অবনমিতকরণ, সহকারী প্রকৌশলী অপসারণ
‘রূপপুর গ্রিনসিটি প্রকল্পের বালিশ কান্ড’ তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে অবনমিতকরণ, সহকারী প্রকৌশলী অপসারণ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:


পাবনার ঈশ্বরদীতে বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের গ্রিনসিটি আবাসন প্রকল্পের কাজে অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের আরো দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্পের আবাসন গ্রীণসিটি প্রকল্পে ক্রয় প্রক্রিয়ার বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. রফিকুজ্জামানকে চাকরি হতে অপসারণ এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ.কে.এম. জিল্লুর রহমানকে নিম্নপদে অবনমিতকরণ করা হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার প্রকল্প সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাময়িক বরখাস্তকৃত পাবনা গণপূর্ত সার্কেলের সহকারী প্রকৌশলী মো. রফিকুজ্জামান এবং এ. কে. এম. জিল্লুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) (সিভিল) রাজশাহী গণপূর্ত সার্কেলে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালে রূপপুর গ্রিনসিটি প্রকল্পের ২০ ও ১৬ তলা ভবনের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় এবং ভবনে উঠানোর কাজে অস্বাভাবিক ব্যয়ের বিষয়টি ওই সময়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়। গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত পৃথক তদন্ত কমিটি কর্তৃক দাখিলকৃত প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

প্রসঙ্গত: ২০১৯ সালে প্রকল্পের আবাসিক ভবনের জন্য ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় পদে পদে দুর্নীতি হয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। এতে বলা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরে কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জোনভিত্তিক যে কেনাকাটা হয়ে থাকে, তার বার্ষিক একটি পরিকল্পনা থাকে। সে ক্ষেত্রে ৩০ কোটি টাকার নিচে কেনাকাটা হলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অনুমোদন লাগে না, স্থানীয় পর্যায়েই করা যায়। এর সুযোগ নিয়ে ১৬৯ কোটি টাকার কাজ ৬টি প্যাকেজে ভাগ করা হয়। ফলে প্রতিটি কাজের মূল্য ৩০ কোটি টাকার নিচে হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন পড়েনি। সেখানে প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা।

আর প্রতিটি বালিশ আবাসিক ভবনের খাটে তোলার মজুরি দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। কভারসহ কমফোর্টারের (লেপ বা কম্বলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত) দাম ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। যদিও এর বাজারমূল্য সাড়ে ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। একইভাবে বিদেশি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ টাকায়। এর বাজার মূল্য অবশ্য ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

পাঁচটি ২০ তলা ভবনের জন্য এসব কেনাকাটা হয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য কমফোর্টার শুধু বেশি দামে কেনাই হয়নি, কেনার পর দোকান থেকে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাতে আলাদা ট্রাক ব্যবহার করা হয়। মাত্র ৩০টি কমফোর্টারের জন্য ৩০ হাজার টাকা ট্রাক ভাড়া দেখানো হয়েছে। আর একেক টি কমফোর্টার খাট পর্যন্ত তুলতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২ হাজার ১৪৭ টাকা। কমফোর্টার ঠিক ঠাক মতো খাট পর্যন্ত তোলা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য তত্ত্বাবধানকারীর পারিশ্রমিক দেখানো হয়েছে প্রতিটির ক্ষেত্রে ১৪৩ টাকা। ঠিকাদারকে ১০ শতাংশ লাভ ধরে সম্পূরক শুল্কসহ সব মিলিয়ে প্রতিটি কমফোর্টারের জন্য খরচ দেখানো হয়েছে ২২ হাজার ৫৮৭ টাকা। শুধু কমফোর্টার নয়, চাদরের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে।
উল্লেখ্য ইতোপূর্বে চলতি মাসে আরো ৫জন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাধ্যতামূলক অবসর ও ‘নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ’ করার ঘটনা ঘটে।