রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

খরাপ্রবণ বরেন্দ্রে পথ দেখাচ্ছে বিনা!

WP Import ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:২৫ পূর্বাহ্ন
WP Import ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:২৫ পূর্বাহ্ন
খরাপ্রবণ বরেন্দ্রে পথ দেখাচ্ছে বিনা!
খরাপ্রবণ বরেন্দ্রে পথ দেখাচ্ছে বিনা!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:


তুলনামূলক অল্প সেচের ধান বিনা-১৯ ও ২১ সম্ভাবনা জাগাচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলে। খরাপ্রবণ বরেন্দ্র ভূমিতে ক্রমশই বাড়ছে এই ধানের চাষাবাদ। এই ধান আবাদে নির্ভরতা কমছে ভূ-গর্ভস্থ পানির। অপরদিকে কমছে চাষাবাদের খরচ।

কৃষি অফিস সূত্র জানাচ্ছে- বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির তীব্র সঙ্কট। ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে কৃষকদের এই ধান চাষাবাদে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। পানির সঙ্কটে থাকা বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য বিনা-১৯ ও বিনা-২১ জাতের ধান চাষাবাদে আহ্বান জানান হচ্ছে। উচ্চ ফলনশীল ও রোগ-সহনশীল জাতের কারণে বিনা-১৯ ও বিনা-২১ খরাপ্রবণ বরেন্দ্রে ধানচাষে পথ দেখাচ্ছে। কৃষিবিদরা বলছেন, এই ধান আবাদে কৃষকের আয় যেমন বাড়বে,,ব্যয় কমবেÑ তেমনি খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন- বোরোসহ অন্য ধানের চাষাবাদে ব্যাপক সেচ সুবিধার প্রয়োজন হয়। ঠিকঠাক সেচ দেওয়া না গেলে ফলনে আসে বিপর্যয়। ফলে ধানচাষি সার, কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়া আগাছা দমনে মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। শুধুমাত্র সেচের অভাবে কাক্সিক্ষত ফলন পান না। সেই জায়গা থেকে বিনা-১৯ ও ২১ ধান সম্ভাবনা জাগাচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলে।

ইতোমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন লক্ষ্মীনারায়ণপুর পোড়াগ্রাম, নাচোল ও দেবিনগর ইউনিয়নের গ্রামের চাষীরা এই উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষাবাদে গুরুত্ব দিয়েছেন। এসব এলাাকায় চাষ হচ্ছে বিনা-১৯ ও ২১ ধান। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট-বিনা উদ্ভাবিত খরাসহিষ্ণু, উচ্চ ফলনশীল স্বল্পমেয়াদি ধানের জাত বিনা-১৯ ও বিনা ধান-২১ এর চাষাবাদ বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণে লক্ষ্যে মাঠ দিবসের আয়োজন করেছে। সেখানে চাষিদের বিনা-১৯ ও ২১ জাতের ধান চাষের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।

কৃষি কর্মকর্তা ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা বলেন, খরাপ্রবণ এলাকা হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য উপযোগী বিনা-১৯ ও বিনা ধান-২১। বিভিন্ন মাঠে এই ধানের চাষাবাদ করে ৯৫-১০০ দিনের মধ্যেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। আগামীতে কৃষকদের মাঝে নতুন জাতের এই ধানের বীজ সরবরাহের আশ্বাস দিচ্ছেন তারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের কৃষক আবদুল করিম বলেন, বোরোসহ অন্য ধান চাষে জমিতে সেচের প্রয়োজন পড়ে। সেচ ছাড়া ধান করা সম্ভব না। ফলে ধান চাষের মৌসুম শেষে লোকসান গুনতে হতো। এখন বিনার ধান চাষ করে লাভবান হচ্ছি। কারণ এই ধানে স্বল্প মাত্রার সেচ লাগে। ধানের চারা রোপনের সময় যে সেচ দেওয়া হয়, তাতেই হয়ে যায় ধান। এর বাইরে আর এই ধানে সেচ লাগে না।

নাচোল উপজেলার কৃষক আব্দুল জাব্বার বলেন, বিনা-২৫ ও ২৬ কম সময়ে ফলন দেয়। রোগবালাই প্রতিরোধে সক্ষম হওয়ায় কৃষকের ঝুঁকি অনেকটা কমে গেছে। জেলার গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলায় ইতোমধ্যেই এই জাতের ধান জনপ্রিয়। প্রতি বিঘায় ফলন বাড়ছে, খরচও কম। তিনি চলতি বছর পরীক্ষামূলক ভাবে পাঁচ বিঘা জমিতে বিনা ২৫ ও ২৬ ধান লাগিয়েছিলেন। তিনি এ বছর ১২০ মণ ধান পেয়েছেন।
নাচোলের কৃষক কাজল বলেন, আগে খরার কারণে ধান নষ্ট হয়ে লোকসান গুনতে হতো। কিন্তু এখন বিনার ধান রোগ-বালাই কম হয় এবং খরায়ও ভালো ফলন দেয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. আজাদুল হক বলেন, বিনা ১৭, ১৮, ১৯, ২১ ও ২৫ জাতের ধান চাষাবাদের জন্য চাষিদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এই জাতের ধান চাষাবাদে সেচ লাগবে না। অন্য ধানে কমপক্ষে তিনবার পানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই ধানে চারা রোপনের পরে আর পানির প্রয়োজন হয় না। বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২৫ মণ ধান উৎপাদন হওয়ায় কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বেড়েছে। বিনার উদ্ভাবিত বিনা ধান জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি টেকসই কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে আগামী দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থানে যাবে।

চলতি বছরে জেলায় বিনার বিভিন্ন জাতের ধানের চাষ হয়েছে ৫ হাজার ৩৭৮ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় অন্তত ৫০০ হেক্টর বেশি বলে জানায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী।

তিনি বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে কৃষকদের বিকল্প ফসল চাষাবাদে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। এই অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে চাষাবাদ উপযোগী ধানের ফসল হতে পারে বিনা-১৯ ও বিনা-২১ ধান। কারণ, এই জাতের ধান তুলনামূলক কম পানিতে চাষাবাদ করা যায়। এছাড়াও এই জাতটি অপেক্ষাকৃত খরাসহিষ্ণু ও উচ্চ ফলনশীল হওয়ায় বাড়তি সুবিধা রয়েছে।