ঈশ্বরদীতে দুর্গাপূজায় অনুদানের কথা বলে হতদরিদ্রদের টাকা হাতিয়ে নিলো প্রতারকচক্র

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:
পাবনার ঈশ্বরদীতে শারদীয় দুর্গোৎসবে সমাজসেবা অফিস থেকে সরকারি অনুদান দেয়া হবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী হতদরিদ্রদের নিকট থেকে নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল দাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচয় দিয়ে উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুনিল চক্রবর্তীর মুঠোফোনে প্রতিটি মন্দির এলাকায় পাঁচ জন করে হতদরিদ্র পরিবারের জন্য অনুদান বরাদ্দ হয়েছে বলে জানানো হয়। এ কথা শুনে কয়েকদিন আগে সুনীল চক্রবর্তী বাঘইল দাসপাড়া গ্রামের শ্রী শ্রী বাড়োয়ারী মাতৃমন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী পলাশ চন্দ্রকে বিষয়টি জানান। অনুদান গ্রহণ করতে সমাজসেবা কার্যালয়ে ওই মোবাইলে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। পরে সেই নম্বরে যোগাযোগ করলে জনপ্রতি ৬০০ টাকা করে ০১৮৮০-৩৪৬৬৬৫ নম্বর বিকাশে পাঠানোর কথা বলে প্রতারক চক্র। সরল বিশ্বাসে পলাশ চন্দ্র নিজ এলাকার অন্যান্য দরিদ্র বাসিন্দাদের সঙ্গে অনুদানের ব্যাপারে আলাপ করে ৩৬ জনের নিকট থেকে ২১ হাজার ৬ শো টাকা উত্তোলন করে ওই বিকাশ নম্বরে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু কয়েক দিন অপেক্ষা করলেও কোন অনুদান পাননি তারা। যে বিকাশ নম্বরে টাকা দেওয়া হয়েছিল সে নম্বরটিও গত রোববার থেকে বন্ধ।
ভুক্তভোগী শ্রী জয় চন্দ্র দাস, ভারতী রাণী ও পারুল গতকাল সোমবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা যারা বাঘইল দাসপাড়াায় বসবাস করি তারা খুবই গরিব। কেউ জুতা সেলাই, কেউ রিকশা চালক ও কেউ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। দুর্গাপুজা উপলক্ষে অনুদান দেওয়ার কথা বলে আমাদের ৩৬ জনের নিকট থেকে প্রতারকরা জনপ্রতি ৬০০ টাকা করে নিয়েছে।
বাঘইল দাসপাড়া বাড়োয়ারী মাতৃমন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী পলাশ চন্দ্র বলেন, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুনীল চক্রবর্তী আমাকে মুঠোফোনে ৫ জনের নামে অনুদান বরাদ্দ হয়েছে জানিয়ে উপজেলা পরিষদে যোগাযোগের একটি নম্বর দিলে সেখানে যোগাযোগ করি। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সেই অনুদান গ্রহন করতে সরল মনে ৩৬ জনের নিকট থেকে ২১ হাজার ৬ শত টাকা উত্তোলন করে বিকাশে পাঠাই। এর পর থেকে ওই নম্বরটি বন্ধ পাচ্ছি। এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুনীল কুমার চক্রবর্তী বলেন, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচয় দিয়ে অনুদানের কথা জানালে আমি দরিদ্রদের সহযোগীতার কথা ভেবে তাদের নম্বরটি দিয়েছি। কিন্তু বুঝতে পারিনি এটা প্রতারক চক্রের প্রতারনা। বিষয়টি নিয়ে থানা ও সমাজসেবা অফিসে জানানো হয়েছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যাক্তিকেন্দ্রীক কোন অনুদান দেওয়া হচ্ছে না। তাছাড়া সমাজসেবা কার্যালয় থেকে কাউকে ফোনও করা হয়নি। এটা প্রতারক চক্রের কারসাজি হতে পারে। তিনি সকলকে সচেতন থাকার আহবান করেন।