রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

শিবগঞ্জে ৪০০ বাড়ি নদীগর্ভে, ঝুঁকির মধ্যে হাজার পরিবার

WP Import ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:১৩ অপরাহ্ন
WP Import ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:১৩ অপরাহ্ন
শিবগঞ্জে ৪০০ বাড়ি নদীগর্ভে, ঝুঁকির মধ্যে হাজার পরিবার
শিবগঞ্জে ৪০০ বাড়ি নদীগর্ভে, ঝুঁকির মধ্যে হাজার পরিবার


শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)সংবাদদাতা:


মাত্র দ্ইু মাসের মাধ্যে শিবগঞ্জের পাঁকা ও দূর্লভপুর ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের ৪০০ বাড়িঘর, গোরস্থান, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। হাজার খানেক পবিরবার ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে আছে। অসহায় জীবনযাপন করছে ভাঙ্গনের কবলে পড়া শতাধিক পরিবার।

অনেকেই বাস করছে খোলা আকাশের নিচে। উপযুক্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ভাঙ্গনকবলিত মানুষের তীব্র ক্ষোভ, প্রশাসনের প্রতি। তবে প্রশাসন বলছে, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে পাঁকা ও দূর্লভপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহ থেকে দূর্লভপুর ইউনিয়নের দ্বোভাগী, পণ্ডিতপাড়া, বাদশাহ পাড়া, মনোহরপুর,আইয়ুব বিশ্বাসের গ্রামে প্রায় এক শো বাড়িঘর পদ্মার ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে।

বিলীন হয়েছে শত শত বিঘা আমবাগানসহ ফসলি জমি। ভাঙ্গনের কবলে নিঃস্ব হওয়া রাজশাহী নিউ গর্ভমেন্ট সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী দ্বোভাগী গ্রামের ইজাজ আহমেদ জানান, এবার দিয়ে আমরা দু’বার ভাঙ্গনের কবলে পড়লাম। বর্তমানে নদী থেকে সামান্য দূরে ফুল দিয়াড়ী এলাকায় অস্থায়ী বাড়ি তৈরি করে বাস শুরু করেছি।

গত এক সপ্তাহে শুধু দ্বোভাগী গ্রামেই ৫০টি বাড়ি বিলীন হয়েছে। বর্তমানে আমি আমার লেখাপড়া নিয়ে হতাশায় আছি। তার দাবি এভাবে জিও ব্যাগ ফেলে জনগণের সাথে নাটক না করে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি। একইভাবে হতাশার কথা জানান, পদ্মায় বাড়িঘর হারানো জামাল উদ্দিন, ইব্রাহিম, জাহাঙ্গীর হোসেন, জেনারুল ইসলাম, সেলিম রেজা, মানারুল ইসলাম, সাইদুর রহমান, নাসিমা বেগম, ফাতেমা বেগমসহ দ্বোভাগী গ্রামের অন্যরা।

তারা জানান, আমরা গরিব মানুষ যা ছিল তা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন কোথায় যাবো কী খাবো, বুঝে উঠতে পারছি না। পণ্ডিতপাড়ার জামাল উদ্দিন জানান, আইয়ুব বিশ্বাসের গ্রাম, বাদশাহপাড়া, পণ্ডিতপাড়া, মনোহরপুর গ্রামের গ্রামে এক মাসে দুই দফায় প্রায় ১৫০টি বাড়ি বিলীন হয়েছে। একই কথা বললেন, মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল খালেক, সাহেবের ঘাটের আব্দুল জলিল, আব্দুর রহিম, আব্দুল করিমসহ অনেকেই।

চরলক্ষীপুর ও হাসানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল বারী ক্ষোভের সাথে জানান, ৩০ বছরে প্রায় চার বার ভাঙ্গনের কবলে পড়লাম। তখন থেকেই শুনছি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হবে। এখন পর্যন্ত কোন খবর নেই। আমরা মানুষ হয়ে জন্ম নিলেও প্রশাসনের কাছে যেন আমরা অন্যকিছু।

বন্যা ও ভাঙ্গন শুরু হলে শুধু কিছু জিও ব্যাগ ফেলে জনগণকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা। যা পরের বছর আসতে আসতে পানিতে ভেসে যায়। ভাঙ্গনকবলিত মানুষকে রক্ষা করার একটাই উপায় হলো শিবগঞ্জের মনোহরপুর হতে পাঁকা ইউিিনয়নের শেষ সীমানা পর্যন্ত প্রায় ১১কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা। দূর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আজম জানান, গত একমাসে দ্ইু দফায় দূর্লভপুর ইউনিয়নে আটটি গ্রামে পদ্মার ভাঙ্গনে প্রায় ২০০ বাড়ি বিলীন হয়েছে। আরো প্রায় ৪০০ পরিবার ভাঙ্গনের ঝুঁকির মধ্যে আছে।

অন্যদিকে পাঁকা ইউনিয়ন ইউপি চেয়ারম্যাম আব্দুল মালোক জানান, গতকাল (শনবার) পর্যন্ত পাাঁকা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ১৬২টি বাড়ি বিলীন হয়েছে এবং কয়েকদিনের মধ্যে আরো ৪০টি বাড়ি বিলীন হতে যাচ্ছে। তাছাড়া ঝুঁকির মধ্যে আছে সাড়ে তিন শো পরিবার। নতুন করে নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের কষ্ট আরো বেড়ে গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব ভাঙ্গনের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা ইতোমধ্যে জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা করছি। মনোহরপুর, রঘুনাথপুর, দ্বোভাগী সহ কয়েকস্থানে কাজ চলছে। অন্যদিকে স্থায়ী বাঁধ নির্মানের জন্য প্রায় ৭৫১ কোটি টাকার একটি পরিকল্পনা তৈরি করে রাজশাহী পরিকল্পনা কমিশনের পাঠানো হয়েছে।

তারা সেটি ঢাকা পাঠাবেন এবং ঢাকার হেড অফিসের মাধ্যমে একনেকের অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা যাবে। মনাকষা ও দূর্লভপুর ও পাঁকা ইউনিয়নের প্রায় ১১ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ করা সম্ভব হবে।