সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে কার জন্য কত নতুন মুনাফা

সোনার দেশ ডেস্ক:
দেশে সাধারণ মানুষের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় সঞ্চয়পত্র। বিশেষ করে নি¤œ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেকেই সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকায় সংসারের খরচ চালিয়ে থাকেন।
বর্তমানে সঞ্চয়পত্র কেনা ও মুনাফা উত্তোলনের প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা হয়েছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ৭১টি সঞ্চয় ব্যুরো কার্যালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শাখা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, ডাকঘর এবং কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকেও এখন সঞ্চয়পত্র কেনা ও ভাঙানো যায়।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর বর্তমানে মোট ১১টি সঞ্চয় স্কিম চালু রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র, দুটি ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক হিসাব, একটি ডাক জীবনবিমা, একটি প্রাইজবন্ড এবং প্রবাসীদের জন্য তিনটি বিশেষ বন্ড। প্রতিটি স্কিমে বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফার হার ভিন্ন। তবে শুধু মুনাফার হার নয়, উৎসে কর কর্তনের হারও স্কিম অনুযায়ী ভিন্ন হয়। অর্থাৎ বিনিয়োগের ধরন ও বিনিয়োগকারীর কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাক বা না থাক, তার ওপর ভিত্তি করেই কর কর্তন করা হয়।
সরকার নির্দিষ্ট সময় পরপর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনা করে। তাই কারা কোন স্কিমে বিনিয়োগ করছেন, কী পরিমাণ মুনাফা পাবেন এবং কর কত কাটা হবে— এসব বুঝে বিনিয়োগ করাই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সবশেষ চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার কমিয়েছে সরকার। নতুন এই হার আগামী ছয় মাস অর্থাৎ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নতুন হার অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, আর সর্বনি¤œ সুদহার হবে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ।
এ ছাড়া, নতুন নিয়মে বিনিয়োগের পরিমাণের ভিত্তিতে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। যাদের বিনিয়োগ কম, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি মুনাফা পাবেন। আর যাদের বিনিয়োগ বেশি, তাদের ক্ষেত্রে সুদের হার অপেক্ষাকৃত কম হবে।
সঞ্চয়পত্রে মুনাফার নতুন হারে বিনিয়োগ সীমা নির্ধারণ করেছে সরকার। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকে ‘ছোট বিনিয়োগ’ হিসেবে ধরা হবে বলে নির্ধারিত হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো বিনিয়োগকারীর সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ যদি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম হয়, তবে তিনি তুলনামূলকভাবে বেশি মুনাফা পাবেন। অন্যদিকে, যাদের বিনিয়োগ এই সীমার বেশি, তাদের জন্য মুনাফার হার কিছুটা কম রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে উৎসে কর ৫ শতাংশ, তার বেশি বিনিয়োগে গুনতে হবে ১০ শতাংশ উৎসে কর।
তথ্যসূত্র: ঢাকাপোস্ট