চট্টগ্রামে জশনে জুলুসে পদদলিত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২

জশনে জুলুস র্যালিজশনে জুলুস র্যালি
সোনার দেশ ডেস্ক:
চট্টগ্রাম নগরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুসের র্যালিতে প্রচন্ড গরমে অসুস্থ ও পদদলিত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দুজন হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮ জন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আজ শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নগরের মুরাদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া দুজন হলেন- চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা আইয়ুব আলী (৬০) ও নগরের কালামিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম (১৩)। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নূরে আলম আশিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জশনে জুলুস উপলক্ষে র্যালিতে প্রচন্ড গরমের কারণে অসুস্থ হয়ে ৬০ বছর বয়সী আইয়ুব আলী সড়কে পড়ে যান। তখন তিনি ভিড়ে পদদলিত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে, জশনে জুলুস উপলক্ষে র্যালিতে মুরাদপুর এলাকায় মানুষের ভিড়ের মধ্যে চাপা পড়ে আরও ৭-৮ জন আহত হন। তাদেরকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে সাইফুল ইসলাম (১৩) নামে এক কিশোর মারা যায়। মাহফুজ (৩৫) নামে আহত আরও একজনকে ২নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। আহত একজনকে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আঞ্জুমানের স্বেচ্ছাসেবক মো. আমিনুর রহমান বলেন, ‘জুলুসে প্রচ- ভিড়ে চাপা পড়েছিল বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে আহত পাঁচ জনকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। একজনকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের মধ্যে একজন ১২ বছর বয়সী শিশু রয়েছে।’
এর আগে, শনিবার সকাল ১০টায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জশনে জুলুস শুরু হয়। এ বছর জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ্। এতে উপস্থিত আছেন শাহজাদা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ। সৈয়দ মুহাম্মদ মেহমুদ আহমদ শাহ ও আনজুমান ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
এ জুলুসের আয়োজক সংস্থা আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট এবং সার্বিক সহযোগিতা করে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জশনে জুলুস ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসাসংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়দিয়া তৈয়বিয়া থেকে সকাল ১০টায় শুরু হয়। সেখান থেকে শুরু হয়ে বিবিরহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর-২ নম্বর গেট-জিইসি মোড় হয়ে পুনরায় ২ নম্বর গেট-ষোলশহর-মুরাদপুর-বিবিরহাট-জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসাসংলগ্ন জুলুস ময়দানে জমায়েত হয়। সেখানে মাহফিল এবং জোহরের নামাজ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন